
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূল নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে। মঞ্চে কোনো অধ্যক্ষ বা সিনিয়র শিক্ষককে স্থান না দেওয়া এবং এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) কালিহাতী উপজেলা পরিষদ হলরুমে শিক্ষা আলো ছড়ায়,মাদক জীবন হারায়—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো.লুৎফর রহমান মতিন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।
সভায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হলেও মঞ্চে কোনো কলেজ অধ্যক্ষ কিংবা সিনিয়র শিক্ষককে আসন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
এর মধ্যে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম.আব্দুল আউয়াল প্রথম সারিতে বসার পর তাকে পেছনের সারিতে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সভাস্থলে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল বলেন,শিক্ষকদের সভায় অধ্যক্ষ ও সিনিয়র শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়া যথার্থ ছিল।
অন্যদিকে এলেঙ্গার লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন,শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের জায়গা না দিয়ে শিক্ষক সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে স্থান দেওয়া হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঞ্চ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উপস্থিত শিক্ষকরা। তাদের দাবি, শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত ছিল।
সভায় কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইউম খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ,ড্যাব নেতা ডা.শাহ আলম তালুকদার, মোজাম্মেল হক হিরো,কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান,কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুল বাশার তারেক,সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।