বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের সমাধির পাশে তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ। নজরুলের চিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চা বাড়ানোর আহ্বান ময়মনসিংহে। নারীর ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগ,চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় নারী চালক-হেলপারের বিআরটিসি বাস। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি ও সারের অনিয়ম,মান্দায় ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা। টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ দুই সহোদর আটক। নারায়ণগঞ্জের নাজির কামরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার,মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা। ২৬৭ ভোটে মোস্তাক,২২৫ ভোটে শাহ জাহান—জেবিএবির নেতৃত্বে নতুন জুটি। কক্সবাজারে অবৈধ অস্ত্রসহ দুইজন আটক,ঘোনার পাড়ায় পুলিশের অভিযান। বেগমগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, তদন্তের দাবি। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে অবস্থান,সন্দেহে আটক যুবক-যুবতী,দুই হোটেল মালিকের জরিমানা।

DEFI CLUB COIN-এর নামে প্রতিদিন বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- দৈনিক বিজনেস প্রতিদিন।
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৪১৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ-

ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতিনিয়তই পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ডিজিটাল প্লাটফমের এই প্রকাশ্য প্রতারণায় গড়ে উঠেছে দেশ ব্যাপী একটি প্রলোভনের শক্তিশালী নেট ওয়ার্ক। বাংলাদেশে যার নেতৃত্ব দিচ্ছে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি। অতীতে যিনি ছিলেন ডেস্টিনি ২০০০ এর ডায়মন্ড পদধারী একজন শীর্ষ প্রতারক।

* প্রতারণা আড়ালে ব্যবহার হচ্ছে সাংবাদিক পরিচয়।
* অতীতে জড়িত ছিলেন এমএল এম প্রতারণায় ।
* দেশে স্থায়ী কোন অফিস নেই।
* ডলার কনভার্ট হয়ে অর্থ যাচ্ছে দেশের বাইরে।
আমাদের অনুসন্ধ্যানে উঠে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে,দুবাই থেকে পরিচালিত হচ্ছে এই অনলাইন মানি গেইম। জানা গেছে, প্রতারনার এ ব্যবসাটি পরিচালনার মূল নেতৃত্বে রয়েছে রেজা নামক একজন বাংলাদেশী। দুবাই বসে তিনি বিশেষ এ্যাপসের মাধ্যেমে প্রতিদিন হাতয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ডলার। দেশ ব্যাপি তিনি বিশেষ কমিশন ও সহজে কোটি পতি হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশেষ এই নেটওযার্ক।
বাংলাদেশ পার্টে প্রধান এজেন্ট হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম নামের ব্যক্তি। তার সহযোগি হিসেবে নাম উঠে এসেছে একজন সাংবাদিকের। জানা গেছে, এ কোম্পানীর নিজস্ব কোন অফিস নেই। রাজধানীর বড় বড় হোটেল, রেস্টুরেন্টই এদের আড্ডার জায়গা। ব্যবসার প্রচারণা চলে ডিজিটাল প্লাটফর্মে জুমের মাধ্যমে। ব্যবসার প্লানিং হিসেবে দেখানো হচ্ছে নূন্যতম ১০০ ডি কয়েন বিনিয়োগে করলে প্রতিদিন রিওয়ার্ড আসে। একবার বিনিয়োগ করলে ২০০০(দুই হাজার) দিন একনাগাড়ে রিওয়ার্ড যোগ হবে নির্ধারিত একাউন্টে। যঃঃঢ়ং://ফবভরপষঁন.নরু/ আসবেএই ঠিকানার মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে । সম্প্রতি প্রতিবেদক এর হাতে একটি জুম মিটিং এর ভিডিও রেকর্ড আসে, সেখানে ৫০০ এর অধিক অংশগ্রহনকারীর যোগ দেয়ার তথ্য রয়েছে। এরা অধিকাংশই এজেন্ট। এজেন্টরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রলাভন দেখিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার পাচার করে দিচ্ছে দেশের বাইরে। এর মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য তাদের কেউ কেউ লাভবান হলেও দেশের অর্থনীতির বারটা বাজিয়ে দিচ্ছে এ প্রতারক চক্রটি।
কোম্পানিতেও কাউকে বিনিয়োগ করাতে পারলে এজেন্ট পাচ্ছে নগদ ১০ শতাংশ কমিশন। আরও বেশি গ্রাহক আনতে পারলে মোটা অংকের কমিশনের সঙ্গে দেয়া হচ্ছে বিশেষ কমিশন ও বোনাস।

প্রদর্শিত প্লানিং থেকে দেখা যাচ্ছে, ডিফাই ক্লাব এক্সচেঞ্জ এ স্টেকিং এ ১. নূন্যতম ১০০ ডি কয়েন স্টেকিং করা যায়। ২. একবার স্টেকিং করলে প্রতিদিন রিওয়ার্ড আসে এভাবে ২০০০ দিন একনাগাড়ে আসবে। ৩. প্রতিদিন রিওয়ার্ড উইথড্র করে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক একাউন্ট এ ক্যাশ করা যায়। ৪. প্রয়োজন এ মূল বিনিয়োগ ও উইথড্র করে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক একাউন্ট এ ক্যাশ করা যাবে। ৫. স্টেকিং পুল এর ধারনক্ষমতা মাত্র ১০ কোটি ডিকয়েন যাহা মূল সাপ্লাই এর মাত্র ১০ ভাগ অর্থাৎ এই স্টেকিং সুবিধা খুবই সীমিত তাই যারা আগে নিবে তারাই শুধু এই প্রজেক্ট এর অংশ হতে পারবে। ৬. ডি কয়েন এর দাম বাড়ার সাথে সাথে যারা আগে স্টেকিং করেছে তাদের রিটার্ন সবচেয়ে বেশি হবে কারন রিওয়ার্ড রেট সমান হলেও কয়েন রেট বাড়ার কারণে তাদের ক্যাপিটাল গেইন ও প্রফিট গেইনও কয়েক গুন হয়ে যাবে। ৭. যেহেতু বাইনান্স ব্লকচেইন (পাব্লিক ব্লকচেইন) এ এই স্মার্ট কন্ট্রাক্ট ডেপ্লোয় করা হয়েছে, তাই পরবর্তীতে এর পরিবর্তন বা মেনুপুলেট করা সম্ভব নয় বলে গ্যারান্টি দেয়া হচ্ছে। ৮. ডিফাই ক্লাব যেহেতু একটা ডি সেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জ তাই ট্রাস্ট ওয়ালেট, মেটামাস্ক ওয়ালেট সহ সমস্ত ডি সেন্ট্রালাইজড ব্লকচেইন একাউন্ট কানেক্ট করেই এখানে ট্রেডিং, পুলিং, স্টেকিং করা হয় বলেও প্রচার করা হচ্ছে।
এমন সব প্রলোভনে পড়ে বিনিয়োগকারিরা প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার তুলে দিচ্ছে প্রতারক চক্রের হাতে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাটের প্রধান জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ব্যবসার বৈধতা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সে প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে রাজি হয়নি।
দেশের বাজারে এমন বেশ কিছু প্লাটফর্ম বিদ্যমান থাকলেও দেশের ফিনান্সিয়্যাল ইন্টিজেন্স সার্ভিস কেন এদের ধরছে না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এমন প্রশ্ন থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্টদেও তৎপরতা জরুরি বলে মনে করছে অর্থ খাতের বোধ্যরা।

Share this news as a Photo Card

বিজনেস প্রতিদিন ২৪ ডট কম প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
কপিরাইট © ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
themesba-lates1749691102