
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার,ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাজির কামরুলের।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আওয়ামী দোসর’ও‘ভূমিদস্যু’সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রচারণা চালানোর ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন নাজির কামরুল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নাজির কামরুলের তোলা পুরোনো ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ছবি ব্যবহার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অনলাইন মাধ্যমে কামরুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগও প্রচার করা হয়। তবে নাজির কামরুলের দাবি, তিনি কোনো ধরনের ভূমিদস্যুতার সঙ্গে জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অন্যদিকে যেসব ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে এসব কনটেন্ট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে বন্দরের আমিরুল ইসলাম ও তার ছেলে আরিফের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমিরুল ইসলাম বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আরিফ বন্দর উপজেলা তরুণ প্রজন্ম লীগের সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ২০১০ ও ২০১৮ সালের দুটি মামলা এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগে একটি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
নাজির মো.কামরুল ইসলাম বলেন,আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি সরকারের একজন ক্ষুদ্র কর্মচারী। আইনের প্রতি আমার শতভাগ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি সত্য পথে আছি এবং সত্য পথেই থাকব ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে আমিরুল ইসলাম ও তার ছেলে আরিফের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ছবি থাকা দায়িত্ব পালনের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে। তাই শুধু পুরোনো ছবি ব্যবহার করে কোনো কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে প্রচার করা যথাযথ নয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচারের আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি। একইসঙ্গে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে হয়রানি করা হলে বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।