
বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ,হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিল নিবন্ধনে নানা জটিলতা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নামের বানানে সামান্য ভুল কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের অমিলকেও ঘুষ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
কক্সবাজারের রামু থেকে ফরিদুল আলম রনি
স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সম্প্রতি রামু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একের পর এক অভিযোগ করেন সেবাগ্রহীতারা। কেউ দলিল আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন, আবার কেউ নামের সামান্য ভুল দেখিয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,সাব-রেজিস্ট্রার সাহেদ হোসেন চৌধুরীকে কেন্দ্র করে অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দলিল লেখক ও অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রামু উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের শিক্ষক লোকমানুল হক অভিযোগ করেন, এক আত্মীয়ের জমি নিবন্ধনের সময় জমিদাতার খতিয়ানে বাবার নাম‘নাছির’-এর পরিবর্তে ‘নাদির’লেখা থাকায় দলিল নিবন্ধন আটকে দেওয়া হয়। পরে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর নিবন্ধন সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন তিনি।
গর্জনিয়া এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমদও তার নামের একটি শব্দের ভুল দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি,সরকারি ফির বাইরে ‘অফিস খরচ’ নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি অলিখিত ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,১০ লাখ টাকার কম মূল্যের দলিলে প্রতি লাখে ১ হাজার টাকা এবং ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের দলিলে প্রতি লাখে ৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়।
এ ছাড়া নামের বানানগত অমিল,জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের পার্থক্য,‘ওরফে’বা‘প্রকাশ’শব্দের ব্যবহারসহ বিভিন্ন ছোটখাটো জটিলতাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ জুয়েল চৌধুরী অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে তার আত্মীয়দের জমি নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের সামান্য অমিল দেখিয়ে নিবন্ধন আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে অর্থ লেনদেনের পর দলিল নিবন্ধন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার এক চাচাতো ভাইয়ের জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও প্রায় এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ অভিযোগ করেন, এক অসহায় নারী ছেলের নামে অল্প পরিমাণ জমি দানপত্র করতে গেলে নানা অজুহাতে নিবন্ধন করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে রামু সাব-রেজিস্ট্রার সাহেদ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগীদের দাবি,টাকা দিলে রেজিস্ট্রি হয়, না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে দলিল আটকে রাখা হয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।