
বিশেষ প্রতিবেদক।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে শুরু হয়েছে ফেস্টিভ সেল, কার্যক্রম, যার মূল প্রতিপাদ্য—“দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের।
প্রতি উৎসব মৌসুমে যখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ ওঠে, তখন উল্টো পথে হাঁটছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বাজার মনিটরিং,মোবাইল কোর্ট অভিযান এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বাজার রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে প্রথম এ ধরনের মূল্যছাড়ভিত্তিক উৎসব সংস্কৃতির ধারণা দেন ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরে চট্টগ্রামে যোগ দিয়ে খাতুনগঞ্জ,রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ফেস্টিভ সেল,কার্যক্রম।
সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন,বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎসব এলে পণ্যের দাম কমে। কিন্তু আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে উল্টো চিত্র দেখা যায়। এই সংস্কৃতি পরিবর্তন করে মানবিক বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন,চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী। তাই এখান থেকেই আমরা নতুন বার্তা দিতে চাই—উৎসব আসলে দাম বাড়বে না, বরং কমবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন নিত্যপণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় দিতে সম্মতি জানিয়েছেন।
রোববার নগরের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স মার্কেট,খুলশীর বিভিন্ন সুপার শপ এবং কর্ণফুলী চৌমুহনী বাজারে বাজার মনিটরিং ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মূল্যতালিকা যাচাই,ক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং “দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের, স্লোগানভিত্তিক প্রচারণা চালানো হয়। অনিয়মের দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়েছে।
এদিকে বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন বাজারেও ফেস্টিভ সেল কার্যক্রমের প্রচারণা চালানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,কিছু বাজারে ইতোমধ্যে আদাসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে।
বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ৩৭টি পেঁয়াজবাহী কন্টেইনার দ্রুত খালাস করা হয়েছে। এতে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীদের লোকসান করতে বলছি না। তবে উৎসব উপলক্ষে যদি তারা লাভের একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য ছাড় দেন, তাহলে সব শ্রেণির মানুষ স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন,চট্টগ্রাম থেকেই একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হোক—উৎসব এলে দাম বাড়বে না, বরং কমবে। এই উদ্যোগ সফল করতে ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।