
বরিশাল প্রতিনিধি | ৪ ডিসেম্বর।
ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো এক স্বামী শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও বৃদ্ধা মায়ের হাতেই ধরা পড়েছেন। বরিশাল নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে জনসম্মুখে এই ঘটনাটি ঘটে,যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নগরজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরকীয়া ফাঁস,প্রকাশ্যে মারধর
ভুক্তভোগী স্ত্রী জানান,স্বামী কাজ ও মামলার অজুহাতে ঢাকায় যাচ্ছেন—এমনটাই তিনি ভেবেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে স্বামী ঢাকায় না গিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রী ও স্বামীর মা তাকে বরিশালে আটকান।
এ সময় প্রেমিকার হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্ত্রী বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী জনসম্মুখেই স্ত্রীকে মারধর করেন। এক সন্তানের জননী ওই নারী মায়ের চোখের সামনে এবং অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে নির্যাতনের শিকার হন।
নীরব দর্শক সমাজ
মারধরের পর মাটিতে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই নারী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তার কান্না ছিল হৃদয়বিদারক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনার সময় অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—নারী যখন প্রকাশ্যে নির্যাতিত হন,তখন সমাজ কেন নীরব দর্শক হয়ে থাকে?
স্ত্রী ও শাশুড়ির বক্তব্য
ভুক্তভোগী স্ত্রী বলেন,ছয়–সাত বছর সংসার করছি। একটার পর একটা ভুল করছে। আর কতবার করবে?
স্বামীর মা জানান,অভিযুক্ত রবিউলের সঙ্গে ওই মেয়ের আগেও সম্পর্ক ছিল। এমনকি একসময় সেই মেয়েই রবিউলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছিলেন।
তিনি বলেন,ওই মামলায় আমাদের দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এই ছেলের জন্য আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আবার সেই মেয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক করছে।
পরিবার ও পরিচয়
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দবদপিয়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় সাত বছর আগে তিনি মোলাদি উপজেলার সিকান্দার মল্লিকের মেয়েকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর বরিশালজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নারী নির্যাতন,পরকীয়া সম্পর্ক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে নারীর ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।