
ডুমুরিয়া (খুলনা)।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বিশেষ করে হলুদ ফুলকপির বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ ফসলটি এখন এলাকার কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনার নাম।
স্থানীয় কৃষকদের মতে,অনুকূল আবহাওয়াসময়মতো বীজ বপন এবং সুষম সার ব্যবহারের ফলে এবছর ফুলকপির ফলন আশানুরূপ হয়েছে। বিশেষ করে‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ নামে পরিচিত হলুদ জাতের ফুলকপি বাজারে বেশি চাহিদা ও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে,উপজেলার খর্ণিয়া এলাকার আদর্শ কৃষক আবু হানিফ মোড়ল মাত্র ৩৩ শতক জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ করে প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন। পাশাপাশি তিনি অন্যান্য শীতকালীন সবজিও চাষ করছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে,যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রঙিন ফুলকপির জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়ছে।
কৃষক আবু হানিফ মোড়ল বলেন,রঙিন ফুলকপি,বিশেষ করে হলুদ ও কমলা জাতের ফুলকপি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং বাজারে দামও ভালো। স্বল্প সময়ে ভালো লাভ করা যায় বলে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কৃষক শাহদাত হোসেন ও ববিতা সরকার জানান, তারা দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ২০ বিঘা জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন। যেখানে সাদা ফুলকপির দাম কেজিপ্রতি ২০–২৫ টাকা, সেখানে রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০–৭০ টাকায়।
খুলনা কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো.রফিকুল ইসলাম বলেন,কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ,সার,জৈব আগাছানাশক ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রঙিন ফুলকপি চাষের সফলতা দেখে আগামী মৌসুমে আরও বিস্তৃত আকারে চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে,ভবিষ্যতেও রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।