
স্টাফ রিপোর্টার |মোঃ মাহমুদ।
গাজীপুরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠছে একের পর এক অবৈধ কারখানা। এরই ধারাবাহিকতায় মহানগরীর কড্ডা বাজার এলাকার একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক অঞ্চলে কোনো প্রকার সাইনবোর্ড ও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে একটি অবৈধ চিনামাটির ডাস্ট কারখানা।
দিন-রাত চলমান এই কারখানায় চিনামাটির পাথর ভাঙার ফলে সৃষ্ট সাদা ডাস্ট বাতাসে মিশে পুরো এলাকা ধুলোর চাদরে ঢেকে ফেলছে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা কোনো সরকারি অনুমোদন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,কারখানা থেকে নির্গত ধুলিকণা ঘরের আসবাবপত্র,কাপড়চোপড় এমনকি রান্নার খাবারের ওপরও জমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। ইতোমধ্যে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।
এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান,
সারাদিন জানালা বন্ধ রেখেও ধুলো আটকানো যায় না। বাচ্চারা সারাক্ষণ কাশছে। মালিককে বললে উল্টো হুমকি দেয়।
কারখানার ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শ্রমিকরা কোনো ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করছেন। তাদের মুখে নেই মাস্ক, হাতে নেই গ্লাভস। এতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া আবাসিক এলাকায় ভারী ডাস্ট উৎপাদন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে মালিকপক্ষ প্রকাশ্যেই এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি,জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ বন্ধে দ্রুত এই অবৈধ চিনামাটির ডাস্ট কারখানা বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।