
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৪টি মনোনয়নপত্রের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
শনিবার (—) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির।
তিনি জানান, পাঁচটি আসনে মোট ৫৬ জন প্রার্থী ৫৭টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন— ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকা, হলফনামায় অসম্পূর্ণ বা ভ্রান্ত তথ্য প্রদান, সাক্ষরের ঘাটতি, ঋণ খেলাপি থাকা, তিতাস গ্যাস ও হোল্ডিং ট্যাক্সের বকেয়া এবং দলীয় মনোনয়ন না থাকা।
স্থগিত থাকা চারটি মনোনয়নপত্র প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের আয়কর বকেয়া ও গ্যাস বিল সংক্রান্ত বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে বিকেল চারটার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
আসনভিত্তিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন,
নারায়ণগঞ্জ–১ আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন বৈধ ও ২ জন অবৈধ হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ–২ আসনে ১০ জনের মধ্যে ৩ জন বৈধ,৪ জন অবৈধ এবং ৩ জনের মনোনয়ন স্থগিত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ–৩ আসনে ১১ জনের মধ্যে ১০ জন বৈধ এবং ১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে ১৫ জনের মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও ১ জনের আবেদন স্থগিত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন বৈধ এবং ৪ জন অবৈধ ঘোষিত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে রায়হান কবির বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির ৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,সবার সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ,অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী,জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন এবং সহকারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান।