
ডেস্ক রিপোর্ট :
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরওয়ার ফরিদের বিএনপি কার্যালয়ে উপস্থিতি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিসে গিয়ে শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করলেন।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছে এনএসআই প্রধান প্রায় এক ঘণ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এমন এক সময়ে,যখন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটি শোক পালন করছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে,গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের এমন পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা ও সামরিক প্রটোকল প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সাধারণত এ ধরনের যোগাযোগ হয় পর্দার আড়ালে অথবা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে—দলীয় অফিসে নয়।
প্রসঙ্গত, মেজর জেনারেল ফরিদকে ২০২৪ সালের আগস্টে এনএসআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে তাঁর এই নিয়োগ ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার দিনও সেনাবাহিনীর প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সেনাবাহিনীর একটি কন্টিনজেন্টকে পুষ্পস্তবক বহন করতে দেখা যায়, যা সামরিক রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন,তারেক রহমান বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত নন। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিরত ঊর্ধ্বতন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ‘অতি-উৎসাহী’ উপস্থিতি সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে বেসামরিক–সামরিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে।