
দেশে ব্যবসা পরিচালনা করা বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ব্যবসা শুরু করার তিন বছরের মধ্যে বীমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে না পারলে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণে একটি কোম্পানিকে বছরে ১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গুণতে হয়।
২০১৪ সালে ব্যবসা শুরু করলেও কোম্পানিটি এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি।এতে কোম্পানিটি একদিকে যেমন নিবন্ধনের শর্ত লঙ্ঘন করছে অন্যদিকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে যাচ্ছে।
দেশে ব্যবসা পরিচালনা করা বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা শুরুর ৩ বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানছে না চতুর্থ প্রজন্মের গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
বীমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন,যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না, তার অধিকাংশই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থাও বেশ দুর্বল। শত শত গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে অনেক কোম্পানির বিরুদ্ধে। তবে গার্ডিয়ান লাইফের ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ নেই। বীমা ব্যবসার সব সূচকেই তারা ইতিবাচক। এরপরও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া খুবই দুঃখজনক।
গার্ডিয়ান লাইফের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা।
কোম্পানিটির দাবি,সুশাসন ও আন্তরিক সেবার মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের মনে আস্থা স্থাপন করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির নিয়ম না মেনে গ্রাহকের অর্থ জরিমানার নামে ব্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি করে কীভাবে আস্থা অর্জন করবে তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান থাকার পরও বীমা কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে কেন তালিকাভুক্ত হচ্ছে না জানতে চাইলে আইডিআরএ’র একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,তালিকাভুক্ত হলে অনেক কিছু কমপ্লায়েন্স করতে হয়। তালিকাভুক্ত না হলে কমপ্লায়েন্স না করলেও চলে। তালিকাভুক্ত না হওয়ার পেছনে এটি বড় একটি কারণ।
আইডিআরএ বলছে,কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে তাকে কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিতে হয়। এনওসির জন্য আবেদন করলে কতোবছর নিয়ম লঙ্ঘন করেছে তার ভিত্তিতে জরিমানা করে কর্তৃপক্ষ। গার্ডিয়ান লাইফ চলতি বছরের ২১ মে পর্যন্ত এনওসির জন্য আবেদন করেনি।