
রনি :
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের সমস্ত সাংস্কৃতিক, সামাজিক সহ বিভিন্ন সংগঠন আপনা আপনি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তারি ধারাবাহিকতায় “বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যান পরিষদ’র” সর্বসম্মতিক্রমে নতুন করে (৯৭) বিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদেরকে বলেন শীতের রাত। নদীর পাড়। ওপরে বড় শামিয়ানা টানানো। বাঁশের মাচা বানিয়ে তার ওপর তক্তা বিছিয়ে স্টেজ করা হয়েছে। দুপাশে দুটো হ্যাজাইক লাইট, আলো পেয়ে পোকারা দলবেঁধে এসে হ্যাজাইক লাইটের চারপাশে মহড়া দিচ্ছে। আলো কমে এলে লাইট নামিয়ে পাম্প করে দিচ্ছে কেউ। স্টেজের সঙ্গেই লাইন ধরে বসত বাদক দল, তাদের বাদ্যযন্ত্র ঢোল, ঢাক, বাঁশি, সানাই, খঞ্জনি, ঝুনঝুনিসহ। যাকে গ্রামে বলা হতো যশোরী বাজনা। স্টেজে ওঠানামার জন্য মাটি উঁচু করে ঢালু করে নেমে যেত ওপর থেকে নিচ দিকে। পাশেই বসা থাকত ফ্রমটার। যিনি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সংলাপ বই বা খাতা দেখে বলে দিতেন, যা পরক্ষণই তারা সেই সংলাপ আওড়িয়ে যেতেন। কেউ অন্যদিকে তাকিয়ে বা অন্য মনস্ক হলে সংলাপ এসে গেছে অথচ তার খবর নাই, তখন ফ্রমটার হাতে ইশারা দিয়ে দেখিয়ে দিতেন যে, এখন তার সংলাপ। যাত্রা শুরু হতো দেশাত্মবোধক গান দিয়ে। এই আদি শিল্পটাকে কিছু অসাধু দুষ্কৃতিকার মানুষ ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছেন। এদের হাত থেকে আদি শিল্পটাকে রক্ষা করতে চাই বলে আমাদের এই সংগঠনটি কাজ করবে। ইতিমধ্যে এই ভরা মৌসুমে ঢাকা সিটির মধ্যে যাত্রাপালার অনুমতি পেলেও জেলা উপজেলা থানা পর্যায়ে যাত্রাপালা অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যান পরিষদ’র” ৯৪ বিশিষ্ট গঠন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, সেগুনবাগিচাতে জমা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যান পরিষদ’র” সর্বসম্মতিক্রমে নতুন করে (৯৭) বিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদ গঠনের আংশিক তালিকা নবগঠিত পরিষদের সভাপতি: জনাব মাসুদুল হক বাচ্ছু। কার্যকরি সভাপতি: জনাব শফিকুল ইসলাম শফি। সিঃ সহ-সভাপতি: জনাব মনোয়ার হোসেন খান। সহ-সভাপতি: জনাব রফিকুল ইসলাম শেখ। সাধারণ সম্পাদক: জনাব শামীম খন্দকার। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: জনাব আশরাফুজ্জামান রনি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: জনাব রইচ উদ্দিন আশীষ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: জনাব নটরাজ এন, এ পলাশ। সাংগঠনিক সম্পাদক: জনাব নজরুল মাতব্বর। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: জানাব সানাউল্লাহ সানা। কোষাধ্যক্ষ: জনাব মনির হোসেন। দপ্তর সম্পাদক: প্রদিপ কীর্তনীয়া। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না। সাংস্কৃতিক সম্পাদক: জনাব তুষার মল্লিক। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক: জনাব আমির সিরাজী। সহ-মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক: জনাব শহীদ আকন। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: মুক্তি রানী। সহ-মহিলা সম্পাদক: লক্ষী রানী বনিক। সমাজ কল্যাণ সম্পাদক: আশুতোষ রায়। সহ- সমাজ কল্যাণ সম্পাদক: শাহিনুর আক্তার লক্ষী।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক: প্রশান্ত মন্ডল। সহ-ত্রান ও পুনর্বাসন সম্পাদক: মকবুল হোসেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: জনাব রাখার বিশ্বাস। সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: সালমা আক্তার বৃষ্টি। যুব ও সাহিত্য সম্পাদক: জানাব জয়নাল আবেদীন যশরী। আইন বিষয়ক সম্পাদক: এ্যাডঃ আঃ রহিম। সহ-আইন সম্পাদক: বাসুদেব গুহ। নির্বাহী সদস্য: জনাব কুতুব উদ্দিন সহ ৯৭’বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করা হয়।