
রংপুর:
কুড়িগ্রামে গত পাঁচদিন ধরে শীত ও ঠান্ডার তীব্রতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ, দিনমজুর, নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
তাপমাত্রা নেমে ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৮ শতাংশ হওয়ায় শরীরে শীতের প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। গত পাঁচদিন ধরে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
জেলার ১৬ নদনদীর তীরবর্তী ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস। এসব এলাকার অধিকাংশেই সকাল-রাতজুড়ে হিমেল বাতাস বইছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও চররাজিবপুর উপজেলাগুলোর চরে শীতের তীব্রতা আরও কয়েকগুণ বেশি।
দিনমজুর,নৌ শ্রমিক,কৃষিশ্রমিক ও জেলে পরিবারগুলো শীতে কাজ করতে না পারায় আর্থিক সংকটে পড়ছেন। রাতের বেলা ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডায় অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে,ধরলা নদীর পারের বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন,আমরা গরীব মানুষ। গরম কাপড় তেমন নেই। রাতে ঘুমাতে গেলেই ঠান্ডায় শরীর জমে যায়।
শিক্ষার্থী রাকিব জানায়,সকালে ঠান্ডা আর কুয়াশার জন্য স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তায় বের হলেই হাত–পা জমে যায়।
গৃহকর্মী রেহানা,পারুল ও গোলে বেওয়া জানান—
ঠান্ডার কারণে বাসাবাড়িতে পানি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে গেছে। বরফশীতল পানিতে কাজ করতে গিয়ে জ্বর, সর্দি ও শীতজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তারা।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ব্যাখ্যা:-
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন,গত পাঁচদিন ধরে তাপমাত্রা নিম্নমুখী। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৮ শতাংশ হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
তিনি আরও জানান,তাপমাত্রা আরও কিছুদিন কম থাকতে পারে।সহায়তার অপেক্ষায় শীতার্ত মানুষ।চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুত কম্বল,শীতবস্ত্র ও ত্রাণ সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রাম জুড়ে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।