
স্টাফ রিপোর্টার | ৯ নভেম্বর ২০২৫ | সময়: সকাল ১০.০০–১৩.১০ | জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ।
অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দলনিরপেক্ষ অভিযান, ১৩ নভেম্বর নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ঘোষণা।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিয়া–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলো জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও বিভিন্ন কমিটির সমন্বয় সভা।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক প্রতিরোধ, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যানজট নিরসন, কেপিআই স্থাপনা ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গভীর আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন —
জনাব জসিম উদ্দিন, পিপিএম বার, পুলিশ সুপার, আ ফ ম মশিউর রহমান, সিভিল সার্জন, জনাব নিলুফা ইয়াসমীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কানিজ ফারজানা শান্তা, জেলা আনসার কমান্ডার, দাদন মুন্সী, এনএসআই কর্মকর্তা, আবুল কালাম আজাদ জাকির, পাবলিক প্রসিকিউটর, এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, মাওলানা মঈন উদ্দিন, কর্মপরিষদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামী, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, সভাপতি মহানগর ইসলামী আন্দোলন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, ডেপুটি জেলার প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রায় ৮০–৯০ জন প্রতিনিধি।
সভায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি ওয়ার্ক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নৌপথের নিরাপত্তা ও যানজট নিরসনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন —
অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী যে দলেরই হোক,কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মহল্লাভিত্তিক পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলার গুরুত্বপূর্ণ লিংক রোডগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
এছাড়া চালক ও হেলপারদের কল্যাণে ‘গ্রীন আমব্রেলা ওয়েলফেয়ার ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা প্রাথমিক অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন,
সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আসন্ন ১৩ নভেম্বরকে সামনে রেখে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, পিপিএম বার বলেন,
রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ আরও সহজ হবে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কাউকে হয়রানি করা হবে না,তবে অপরাধীদের ছাড়ও দেওয়া হবে না।
সভায় রাজনৈতিক,প্রশাসনিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নাগরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা একমত হন যে, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।