
নারায়ণগঞ্জ শুধু একটি জেলা নয়,এটি ইতিহাস,ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক গৌরবের প্রতীক।গত ২০ অক্টোবর,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া একান্ত আলাপচারিতায় এই শহরের ইতিহাস,সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক বলেন,নারায়ণগঞ্জ মোগল শাসনামলের ইতিহাস বহন করে। মসলিন কাপড়ের ঐতিহ্য আমাদের গৌরব। ঢাকাকে আমরা যখন চিনেছি,তার আগে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও। শীতলক্ষ্যা নদী এক সময় শহরের প্রাণ ছিল,কিন্তু আজ মৃতপ্রায়।
তিনি আরও জানান,শহরের পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ জনসংখ্যার চাপের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। শহরের আয়তন ৭২ বর্গকিলোমিটার হলেও পরিকল্পনা মাত্র ৩৯ লাখ মানুষের জন্য,যেখানে জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি।
পরিবেশ ও খাল পুনরুদ্ধারে জেলা প্রশাসক‘গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এক লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে,খাল থেকে ময়লা অপসারণ করা হয়েছে এবং খাল ড্রেজিং-এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানো হয়েছে। এছাড়া ইকো পার্ক নির্মাণ,তিন ফসলি জমি উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও মানবিক প্রশাসনেও তিনি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন।পাঁচটি উপজেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মশালা আয়োজন,দু’টি হাসপাতালে মাদকাসক্তদের আড্ডা বন্ধ এবং দরিদ্র রোগীদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমরা পরিকল্পিত নগরায়ণ,পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সচেতনতা মিলিয়ে‘নতুন নারায়ণগঞ্জ’গড়ে তুলতে চাই। ইতিহাস,ঐতিহ্য এবং উন্নয়ন একসাথে থাকবে।