
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা—যাঁকে সারাদেশে ইতোমধ্যেই মানুষ চেনে,মানবিক ডিসি’ হিসেবে। আবারও তিনি প্রমাণ করলেন,একটি দায়িত্বশীল প্রশাসকের কাজ শুধু দাপ্তরিক ফাইলেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই তাঁর প্রকৃত কর্তব্য।
ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের রিংকু শরীফের মেয়ে পিংকি শরীফ শুক্রবার সকাল ৮টায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পাশে অবস্থিত বেসরকারি বিএনকে হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুর পরও শেষ বিদায়টি সহজ হয়নি তাঁর পরিবারের জন্য। হাসপাতালে তখনও মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি ছিল তাঁর নবজাতক কন্যা।
কিন্তু শোকের মাঝেও নেমে এলো আরেক দুঃখের ঝড়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত রোগীর লাশ আটকে রেখে দাবি করে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বিল।
অসহায় পিতা রিংকু শরীফ আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে জোগাড় করতে পারেন মাত্র ৪০ হাজার টাকা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি হাসপাতালকে অনুরোধ করেন কন্যার মরদেহটি হস্তান্তর করতে। কিন্তু হাসপাতালের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকে—বাকিটা না দিলে লাশ ফিরবে না।
ঠিক এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় ঘটনাটি। শুক্রবার রাতেই অনেক মানবিক হৃদয় নড়েচড়ে বসে,কিন্তু যার হস্তক্ষেপ সবকিছুকে বদলে দেয়, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সূত্র জানায়, রাতে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ডিসি জাহিদুল ইসলাম ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন—
মানুষের লাশ কোনো দেনা-পাওনার বন্ধক হতে পারে না। এই লাশ তার পরিবারের,বিল নয় মানবিকতাই আগে।
অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতি স্বীকার করে, এবং পিংকি শরীফের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়।
মানবিক ডিসি কেন তিনি?
এটি প্রথম ঘটনা নয়,নারায়ণগঞ্জের ডিসি জাহিদুল ইসলাম এর আগেও—অসহায় রোগীর চিকিৎসা খরচ বহন করেছেন,
গরিব পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন,শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন,এমনকি বেওয়ারিশ লাশের দাফন পর্যন্ত নিশ্চিত করেছেন।
তাই মানুষ তাঁকে ডাকতে শুরু করেছে—“মানবিক ডিসি”
জনতার প্রশাসক,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের ব্যথিত কণ্ঠ ভেসে আসে,এমন প্রশাসক থাকলে এই দেশের মানুষ এখনও আশায় বাঁচতে পারে।
হাসপাতালের লোভ আর একজন মানুষের মৃত্যুর পরের অসম্মান—লজ্জাজনক।
শেষ কথা,
একজন প্রশাসকের কলমে যেমন ক্ষমতা থাকে, তেমনি তাঁর হৃদয়ে মানবিকতা থাকলে বদলে যায় সমাজ।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন—
রাষ্ট্র শুধু বিধি মানে না, রাষ্ট্র মানুষের কান্না শোনেও।
এই ঘটনা শুধু একটি সংবাদ নয়, মানবিকতার এক জাগ্রত দলিল।