
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়াঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ১১ কোটি টাকার ইজারা নিয়েও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। প্রশাসনের সাময়িক অভিযানেও থামছে না এই চক্রের তৎপরতা, যা সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হার্ডিং ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুকে।
হাইকোর্টের আদেশকে ঢাল,প্রশাসনের নীরবতা,স্থানীয় সূত্র ও পরিবেশ কর্মীদের অভিযোগ,ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু,তার ভাই মেহেদী হাসান, সাবেক যুবদল নেতা সুলতান আহমেদ টনি বিশ্বাস এবং কুষ্টিয়ার ‘বালি সাঈদ’(সাঈদ খান) মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গঠন করে অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করছে,একটি হাইকোর্ট আদেশের মাধ্যমে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সেই আদেশ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মামলার স্থগিতাদেশ,কোনোভাবেই বালু উত্তোলনের বৈধতা দেয়নি।
ভাঙছে নদীর গতিপথ,হুমকিতে ব্রিজ ও জনগণের নিরাপত্তা
প্রকৌশলীরা বারবার সতর্ক করছেন,পদ্মা নদীর গভীর থেকে ভারী যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে ব্রিজের পাইলিং দুর্বল হচ্ছে এবং ভূমিধস ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় এক পরিবেশ কর্মী বলেন,“এই চক্র পরিবেশ আইন, নদী সংরক্ষণ আইন—সবকিছু লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। প্রশাসন একদিন অভিযান চালিয়ে দায় সারে,পরদিনই আবার চক্রটি কাজ শুরু করে।”
সাংবাদিক ও প্রতিবাদকারীদের হুমকি,আতঙ্কে স্থানীয়রা
সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন অল্প সময়ের জন্য অভিযান চালালেও, ৩ জুলাই সকাল থেকেই আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,“নদী যাবে, সেতু যাবে, তারপর ঘরবাড়ি… কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করলেই হুমকি পাই। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
জনগণের জোরালো দাবি,বন্ধ হোক অবৈধ বালু উত্তোলন, সচেতন মহল ও পরিবেশবিদদের দাবি,অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে অবৈধ বালু উত্তোলন।
পদ্মা নদী, হার্ডিং ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
#পাবনা #পদ্মা_নদী #বালু_উত্তোলন #হার্ডিং_ব্রিজ #লালন_শাহ_সেতু #অবৈধ_বালু #নদী_সংরক্ষণ #জাকারিয়া_পিন্টু #বিএনপি #পরিবেশ_দূষণ #সড়ক_নিরাপত্তা