
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বন্ধ হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা,বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
ওয়াশিংটন, ২ জুলাই ২০২৫:
৬৩ বছর ধরে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তায় কাজ করা মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড (USAID) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার বিবিসির বরাতে জানা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সংস্থাটির সবশেষ কর্মসূচিও বাতিল করেছে, যার ফলে কার্যত এটি এখন বিলুপ্ত।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ইউএসএইডের কার্যক্রম ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনা হয়। মার্চ পর্যন্ত সংস্থার ৮০ শতাংশের বেশি কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার বন্ধ হয় বাকি কার্যক্রমও।
বিশ্বখ্যাত ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, ইউএসএইডের মতো সংস্থা বন্ধ হয়ে গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪ মিলিয়ন (১ কোটি ৪০ লাখ) মানুষের অকাল মৃত্যু হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ শিশু হতে পারে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “গবেষণাটি অতিরঞ্জিত এবং ভুল অনুমানে তৈরি”।
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসএইডে কাজ করতেন প্রায় ১০ হাজার কর্মী, যাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বিদেশে নিয়োজিত ছিলেন। সংস্থার ওয়েবসাইটে বুধবার সকালে দেখা গেছে—২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সহায়তার ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, যার প্রভাব হতে পারে বহু দেশব্যাপী।