
নিউজ ডেস্কঃদৈনিক বিজনেস প্রতিদিন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সারাদেশে পালিত হচ্ছে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি। রোববার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি পালনকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং পুলিশ সদস্যদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসংঘর্ষে পুলিশসহ ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ।
রংপুরে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায়,আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন।১০টার দিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ থানার মধ্যে অবস্থান নিলে আন্দোলনকারীরা থানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা করে। সে সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ১২ জন আহত হন।
মুন্সীগঞ্জে অসহযোগ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে তিন জন নিহত ও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৭ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। পর্যবেক্ষণ শেষে তিন জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলা চালিয়ে ১৩ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।সিরাজগঞ্জ শহর ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ৯ জন নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সিরাজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে দিনভর সংঘর্ষে ১৩ পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় অর্ধশতাধিক। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া থানায় হামলা সম্পর্কে বলেন, প্রথমে হাজারখানেক মানুষ দলবেঁধে থানার দিকে আসে। সেখানে তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যায়। পরে কয়েক শ মানুষ অতর্কিতে থানায় এসে হামলা চালায়। তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত ১৩ জন পুলিশ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় এনায়েতপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাকও নিহত হয়েছেন।
রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অপারেশনস অ্যান্ড ক্রাইম) বিজয় বসাক বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল এনায়েতপুর থানায় গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যরাও তাদের সঙ্গে রয়েছেন।
রাজধানী ঢাকায় অন্তত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একজন রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী (২৩)।
পাবনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২৭ জনসহ আহত ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে মাধবদী বাজার বড় মসজিদ এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৬ জন নিহত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. কলিমুল্লাহ চার জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
কুমিল্লায় আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষে পুলিশসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন মিয়া ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খায়রুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেনীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন পথচারী ও সাংবাদিকসহ অসংখ্য মানুষ।
কক্সবাজার শহরে ব্যাপক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
লক্ষ্মীপুরে,সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।নিহতদের মধ্যে ছয় জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- কাউছার, সাব্বির, ওসমান গনি, আহসান ও হারুন মেম্বার।
সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হবিগঞ্জ শহরে সংঘর্ষে রিপন শীল (২৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি জেলা শহরের অনন্তপুর এলাকার রতন শীলের ছেলে। হামলা ও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত শতাধিক।
মাগুরায় ,রোববার (৪ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন শতাধিক।