
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- দৈনিক বিজনেস প্রতিদিন।
সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিকালে আদমজী এমডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সিদ্ধিরগঞ্জ নির্বাচনোত্ত্বর এক পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন-
আমি জনসভার পর আপাকে বলেছিলাম আপনি কি খুশি হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি অনেক অনেক খুশি হয়েছি। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য যে খরচ হয়, সংসদ নির্বাচনের জন্য আমি তার চেয়েও কম খরচ করেছি। ১০ টি ওয়ার্ডে আমার ছেলের বয়সী যারা কাজ করেছে তাদের মধ্যে কয়েকজন আমাকে টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকিরা চেষ্টা করেছিলেন টাকা দেওয়ার,আমি নিই নাই। ইলেকশন আসলে ‘টাকা দেন টাকা দেন’ এমন এক পরিস্থিতি তৈরী হয়। আমার তেমন কিছুই হয় নি। আমি নিজে পোস্টার-ব্যানারের কাজ করিয়েছি, আমার কর্মীরা খুশিমনে কাজ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমার আর চাওয়ার কিছু নেই।
শামীম ওসমান আরও বলেন, সারা দেশে নির্বাচন আসলেই বলে টাকা দেন টাকা দেন। আমার এলাকায় আমি পোস্টার ছাপিয়েছি।এর পরেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখি পোস্টার ছাপানো হয়ে গেছে। এরচেয়ে বেশি চাওয়া পাওয়া আমার কিছু নেই।
এবারের নির্বাচনে আমি ভোট চাইনি। নির্বাচন শেষ, এবার একটাই প্রতিজ্ঞা- নারায়ণগঞ্জকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংমুক্ত করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উসিলায় নারায়ণগঞ্জ থেকে পতিতালয় উচ্ছেদ করেছিলাম। এবারও বাধা আসতে পারে, তবে আপনারা যদি নাও আসেন, যারা মাদক বেচে তাদের বুকের উপর পাড়া দেব আমি।
আমি জানতাম আমার এলাকায় সর্বচ্চো কত শতাংশ ভোট পড়তে পারে। আমার হিসেব ছিল ৪১-৪২ শতাংশ ভোট পড়বে। কিন্তু ভোট পড়েছে ৩২ শতাংশ। বাকি ৯-১০ শতাংশ ভোট পড়ে নাই। পড়ে নাই, না পড়তে দেওয়া হয় নাই। এটাই এখন প্রশ্ন। একদল বলছে, মোবাইল নিয়ে ভোট দেওয়া নিষেধ। ভোটারদের যেতে দেওয়া হয় নাই। পুরুষ মানুষরা ফোন আশপাশে কোথাও রেখে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু মহিলারা যারা ফোন নিয়ে গেছেন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্তত ২টা সেন্টারে ১০০ থেকে ২০০ মহিলা ফেরত গেছে। অথচ তারা ভোট দিলে ৪১ শতাংশ ভোট কাস্ট হত। এটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন আমার কাছে সারাদিন ফোন এসেছে।
প্রথম টেলিফোন নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে দিবে না। এগুলো প্ল্যান করে করা হয়েছে। সর্ষের ভেতর ভুত আছে। অনেক পোশাকওয়ালা মানুষ বলেছে, ভোট স্লো করেন। তারা জানে না এখানে সকল এজেন্সির বাইরে আরেকটা এজেন্সি কাজ করে। শেখ হাসিনার এজেন্সি আছে। তারা বোঝে না শামীম ওসমান আলাদা চিজ হ্যায়। আমি পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানাই।
নয়ত আমার কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ত। নারায়ণগঞ্জের কর্মীরা উত্তেজিত হলে পুরো বাংলাদেশ ও থামাতে পারবেনা।
একেএম শামীম ওসমান বলেন, যে যেই দলই করেন আপত্তি নেই। জ্বালাও পোড়াও করবেন আমি ছাড়বো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতি কুদৃষ্টি আছে। জানুয়ারি থেকে মে মাস পরিস্থিতি খারাপ হবে। না খাইয়ে মারার চেষ্টা হবে। তবে আমি বিশ্বাস করি শয়তান যেমন আল্লাহর সাথে পারে না। ওরাও শেখ হাসিনার সাথে পারবে না কারণ তার উপর আল্লাহর রহমত আছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান বিএসসির সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা,নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি,সাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু,আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুব হোসেন,শ্রমিক নেতা আশরাফ উদ্দিন,নাসিক ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুক, আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ুন কবির, যুবলীগ নেতা খন্দকার মানিক মাস্টার, যুবলীগ নেতা মাহমুদুর রহমান ও যুবলীগ নেতা আবুল কাসেমসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গ সং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীল, জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শামিম আরা লাভলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া,প্রচার সম্পাদক তাজিম বাবু,সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক নাসিক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি,নাসিক প্যানেল মেয়র সিদ্ধিরগঞ্জ,সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজু,থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহ জালাল বাদল, নাসিক ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান রিপন ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।