
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে চিঠি লিখেছেন ব্রিটেনের বার্মিংহামের প্রতিষ্ঠান নিউ হোপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই। চিঠিতে তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর চেয়েও খারাপ বিষয় হচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করছে, রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করছে। আসন্ন নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে আইনিব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এ কাজগুলো গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রধান নীতিগুলোকে স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, ভীতিপ্রদর্শন এবং হয়রানি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে বিরোধী দল ও তাদের সদস্যদের দমন করার জন্য ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এসব করছে। সহিংসতা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার পরিচালিত কর্মসূচি ডাকা হচ্ছে। এসব কর্মসূচি বিরোধীকর্মীদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব পাঠানো চিঠিতে তিনি মোট ৪টি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর কথা বলেছেন। ৪টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, ২০২৪ সালের আসন্ন নির্বাচন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজন করা, বিরোধীদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টি করে এমন সব সরকার-নেতৃত্বাধীন কর্মসূচি বন্ধ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনিব্যবস্থার অপব্যবহারের সুষ্ঠু তদন্ত।
চিঠির শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা মির্জা ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে হস্তক্ষেপ কামনা করে ফয়েজ উদ্দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, আশা করি আপনি ভালো ও সুস্থ আছেন। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি এবং উদ্বেগের কিছু বিষয় আপনার নজরে আনতে আমি এ চিঠিটি লিখছি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে তারা এ হিংসাত্মক কার্যকলাপে যুক্তদের আশ্রয় এবং সমর্থন দিচ্ছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।