
ক্রাইম রিপোর্টার:
দেশের বেসরকারি খাতের নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডকে ঘিরে প্রশাসনিক, আর্থিক ও করপোরেট সুশাসনবিরোধী নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান,সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদ খোকন।
কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সাঈদ খোকন এখনো কোম্পানির নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ রয়েছে,তিনি সরাসরি কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও বোর্ড সভা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
সূত্রগুলো জানায়,সম্প্রতি রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত কোম্পানির এক সভায় চেয়ারম্যান অনলাইনে যুক্ত হয়ে কার্যক্রমে অংশ নেন। বিষয়টি নিয়ে করপোরেট গভর্ন্যান্স ও নিয়ন্ত্রক বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ ইতোমধ্যে বীমা কোম্পানির বোর্ড ও কমিটির সভায় পরিচালকদের সশরীরে উপস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া কাউকে কার্যত প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,কোম্পানির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিদায়ের পর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মইনুল হাসান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রশ্ন রয়ে গেছে।
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে,বর্তমান ব্যবস্থাপনা কাঠামোর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের বিরুদ্ধে আন্ডাররাইটিং অনিয়ম,আন্ডাররেটে ব্যবসা,অতিরিক্ত কমিশন প্রদান,ভুয়া ক্লেইম নিষ্পত্তি,ভ্যাট সংক্রান্ত অনিয়ম এবং অস্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ঈদুল ফিতরের আগে ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও ভাগবাটোয়ারার অভিযোগও উঠেছে। একইভাবে একটি ভুয়া ক্লেইম নিষ্পত্তির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তের দাবি তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অন্যদিকে,সাধারণ গ্রাহকদের বীমা দাবির অর্থ পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। অনেক পলিসিধারী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দাবি নিষ্পত্তি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে একই সময়ে প্রভাবশালী মহলের দাবির অর্থ দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের গঠন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,বোর্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্য বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রতিনিধিত্ব করছে, যা বোর্ডের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন,অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আইডিআরএর উচিত বোর্ড সভার কার্যবিবরণী,চেয়ারম্যানের উপস্থিতি,নেতৃত্ব কাঠামোর বৈধতা,আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম, কমিশন প্রদান,ক্লেইম নিষ্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে গভীর তদন্ত পরিচালনা করা।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোম্পানির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তবে যেহেতু অভিযোগগুলো শেয়ারহোল্ডার,পলিসিধারী এবং পুরো বীমা খাতের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত,তাই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।