
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ব্যাংক ব্যালেন্স ও ঠিকাদারি বিলের তথ্য চেয়ে আবেদন, তথ্য কর্মকর্তার মৌখিক অস্বীকৃতিতে ক্ষোভ।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তথ্য অধিকার আইন,২০০৯ অনুসরণ না করে নাগরিকের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার খর্ব করার অভিযোগ উঠেছে। কর্পোরেশনের ব্যাংক ব্যালেন্স,অবশিষ্ট তহবিল ও ঠিকাদারি বিল সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে করা এক আবেদনের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার মৌখিক অস্বীকৃতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ‘ফরম-ক’অনুযায়ী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন এক গণমাধ্যমকর্মী। আবেদনটি দাপ্তরিকভাবে গ্রহণ করা হয় এবং ডেসপ্যাচ নম্বর-৭২৭ প্রদান করা হয়।
আবেদনে ৫ আগস্ট ২০২৪ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ব্যাংক হিসাব, অবশিষ্ট তহবিল ও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত চারটি নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে,আবেদন জমার পর কয়েকদিন অপেক্ষার পর তথ্য কর্মকর্তা আবেদনকারীকে ডেকে মৌখিকভাবে জানান যে চাওয়া তথ্য প্রদান করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, আপনি যে তথ্য চেয়েছেন,সেটি দেওয়া যাবে না। প্রশাসকও এই তথ্য দিতে চান না। একইসঙ্গে তিনি আবেদনকারীকে জানান,তথ্য পেতে হলে বিষয়টি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পাঠানো হবে।
তথ্য অধিকার আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯(১) ও ৯(৩) অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা আবেদন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। কোনো তথ্য প্রদান সম্ভব না হলে আইনগত কারণ উল্লেখ করে লিখিতভাবে আবেদনকারীকে অবহিত করতে হয়। মৌখিকভাবে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর সুযোগ আইনে নেই।
এছাড়া তথ্য কর্মকর্তা নিজ দায়িত্ব পালন না করে আবেদনকারীকে অন্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর বিষয়টিকেও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন অনুযায়ী,যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো, তথ্য গোপন করা বা আবেদনকারীকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তথ্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিদিন ২৫০ টাকা হারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত জরিমানা আরোপ করতে পারে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য গোপন রাখার প্রচেষ্টা কেন করা হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী আবেদনকারী বলেন,আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইdচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব জানার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে আমি তথ্য অধিকার আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।