
ঢাকা, ১২ জুন ২০২৬:
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ,গতানুগতিক এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। দলটির নেতারা বলেছেন,বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি,শিল্পায়ন,কৃষি উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো.ইয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বাজেট প্রতিক্রিয়া সভায় নেতারা এসব মন্তব্য করেন।
সভায় বক্তারা বলেন,প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হলেও এর কতটুকু বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণ প্রকৃতপক্ষে কতটুকু সুফল পায়,সে বিষয়ে এখনও পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়নি। ফলে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন,
এটি মূলত একটি কপি-পেস্ট ও গতানুগতিক বাজেট। জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন এতে নেই। বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে
দলের নেতারা আরও বলেন,বাজেটে প্রস্তাবিত ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা নীতিমালা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
যুগ্ম সমাজসেবা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিবর্তে বাজেটে ভোগনির্ভর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষি ও শিল্পখাতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় দারিদ্র্য আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর বলেন, সরকারের অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান তারল্য সংকটের মধ্যে নতুন ঋণ সংগ্রহ কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা আরও সংকটে পড়তে পারেন।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন,প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রত্যাশিত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হোসেন বলেন,বাজেটের আকার বড় হলেও এর ভেতরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার,কর্মসংস্থান সৃষ্টি,শিল্পায়ন,কৃষি উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর রূপরেখা অনুপস্থিত। এটি অনেকটা ঋণ করে সংসার চালানোর মতো বাজেট।
সভায় নেতৃবৃন্দ বাজেট পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও উৎপাদনমুখী করতে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা,স্বাস্থ্য এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে কঠোর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, জনগণের কল্যাণ, দারিদ্র্য হ্রাস,কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বাজেটকে রাজনৈতিক প্রচারণার দলিল নয়, বরং একটি বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পবাংলাদেশ কংগ্রেসের বাজেট প্রতিক্রিয়া: ‘জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়, বাস্তবায়নযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ’নায় রূপান্তর করতে হবে।