
প্রতিবেদক:মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী।
নারায়ণগঞ্জে চলমান তীব্র তাপদাহ ও প্রচণ্ড রৌদ্রের মধ্যে পথচারী,শ্রমজীবী মানুষ,অটোরিকশাচালক এবং দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাঝে ঠান্ডা পানি, ওরস্যালাইন ও খাবার বিতরণ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো.রায়হান কবির এবং পুলিশ সুপার (এসপি) মো.মিজানুর রহমান মুন্সী।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে নেওয়া এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উপকারভোগীদের মধ্যে অটোরিকশাচালক,দিনমজুর, রিকশাচালক,পথচারী এবং ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। ঠান্ডা পানি ও ওরস্যালাইন পেয়ে তারা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একজন অটোরিকশাচালক বলেন,তীব্র রোদের মধ্যে সারাদিন গাড়ি চালাতে গিয়ে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঠান্ডা পানি পেয়ে অনেক স্বস্তি লাগছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
একজন দিনমজুর জানান,প্রচণ্ড গরমে কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়। একটু ঠান্ডা পানি ও ওরস্যালাইন শরীরকে চাঙা করে দেয়। আমাদের কথা ভাবার জন্য ডিসি ও এসপি স্যারকে ধন্যবাদ।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ এম এ করিম বলেন,তাপদাহের মধ্যে সড়কে দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। জেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ ট্রাফিক সদস্যদের জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে। এতে আমাদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো.রায়হান কবির বলেন,জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে এই প্রচণ্ড গরমেও বাইরে থাকতে হচ্ছে। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের পাশে থাকাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি,সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন,তাপদাহে পুলিশ সদস্যরাও কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। জনসেবায় পুলিশ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে জেলার সচেতন নাগরিক,সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।