
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি’র সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পীকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, গণতন্ত্র, জ্বালানি সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন,১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় হতে শুরু করে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক আর্চার কেন্ট ব্লাডের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্পীকার বলেন,বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক অতিক্রম করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার করা, সংসদীয় ককাস ফোরামে গণতন্ত্র দিবস উদযাপন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।
জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে মার্কিন সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের সহযোগিতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্পীকার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সংকটের টেকসই সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করছে।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন স্পীকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।