
ফাহাদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা।
সোনারগাঁয়ে জনবান্ধব ওসি মহিববুল্লাহর বদলি,ক্ষোভে ফুঁসছে জনপদ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসি মো. মহিববুল্লাহর আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলাজুড়ে। মাত্র ছয় মাসের মাথায় তাকে বদলি করায় স্থানীয়দের মধ্যে উঠেছে নানা প্রশ্ন—বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের মানবিকতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে।
স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন,উর্ধ্বতনরা যদি মানবিক না হন, তাহলে ওসিরা জনগণের প্রতি মানবিক হবে কীভাবে?
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সোনারগাঁ থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন ওসি মহিববুল্লাহ। তার নেতৃত্বে এলাকায় চুরি-ডাকাতি প্রায় শূন্যে নেমে আসে এবং গ্রেপ্তার হয় শতাধিক মাদক কারবারি। থানায় ‘হেল্প ডেস্ক’ চালুর মাধ্যমে দিন-রাত সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতেন তিনি। এমনকি গভীর রাতেও ডাকাতি প্রতিরোধে নিজেই মাঠে অবস্থান করতেন।
এমন কার্যকর উদ্যোগের পরও হঠাৎ বদলির সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী,জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ। তাদের অভিযোগ—যোগ্যতার স্বীকৃতি না দিয়ে বরং ‘অদৃশ্য চাপের’ কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২ মে বদলির আদেশ আসার পর থানায় ভিড় করেন বহু ভুক্তভোগী। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা এক যুবকের মা কুলসুম বেগম ওসির পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন,আমার পোলাডারে আপনে ভালো করছেন স্যার, আপনে চলে গেলে ও আবার নষ্ট হইয়া যাইব।” এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পুরো সোনারগাঁ।
জনপ্রতিনিধিদের মতে,একজন সফল ওসি যখন জনগণের আস্থা অর্জন করেন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখেন, তখন তাকে যথেষ্ট সময় দেওয়া উচিত। ঘন ঘন ও অযৌক্তিক বদলি পুলিশিং ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর বলেও মনে করেন তারা।
এদিকে জানা গেছে,ওসি মহিববুল্লাহর জমজ সন্তানের এসএসসি পরীক্ষা বর্তমানে বৈদ্যেরবাজার এন.এ.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান। এমন পারিবারিক পরিস্থিতিতে বদলির আদেশ আসায় পরিবারেও তৈরি হয়েছে চাপ ও উদ্বেগ।
বদলি প্রসঙ্গে ওসি মহিববুল্লাহ বলেন,আমি বদলির আদেশ পেয়েছি। তবে পারিবারিক সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বদলির আদেশ স্থগিত বা সময় বাড়ানোর জন্য এসপি ও ডিআইজি মহোদয়ের কাছে আবেদন করেছি। আশা করি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সোনারগাঁবাসীর একটাই দাবি—জনবান্ধব ও সৎ কর্মকর্তাদের যেন পুরস্কার হিসেবে বদলি না দেওয়া হয়। বরং তাদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে মাঠ পর্যায়ে মানবিক পুলিশিং নিশ্চিত করা হোক।