
স্টাফ রিপোর্টার | নারায়ণগঞ্জ (বন্দর)।
এএসআই–কনস্টেবলের ওপর হামলা,ছিনতাইকারীর দাপট, ওসির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন—আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বন্দরবাসী।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক অপরাধ, বিশেষ করে পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
গত শুক্রবার রাতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশের একটি টিম হামলার শিকার হয়। এসময় এএসআই ও কনস্টেবলদের ওপর দুর্বৃত্তরা আক্রমণ চালায় এবং তাদের কাছ থেকে একটি সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের দাবি,এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা আইন-শৃঙ্খলার অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অপরাধ দমনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফরাজীকান্দা-মাধবপাশা,চৌধুরী বাড়ি-রুস্তমপুর ব্রিজ এলাকা এবং দাশেঁরগাও-ধামগড় সড়ক এখন ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। স্থানীয়রা জানান,এসব স্থানে রাতে চলাচল প্রায় অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ,গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে নিয়মিত পুলিশ টহল নেই। ফলে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
গোয়েন্দা কার্যক্রমে দুর্বলতা।অভিযোগ উঠেছে,থানার সোর্স নেটওয়ার্ক ও গোয়েন্দা তৎপরতা আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
দুর্নীতির অভিযোগও আলোচনায়
কিছু স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন,থানার একটি অংশ ‘মামলা বাণিজ্য’ও অনৈতিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের উদ্বেগ
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,শুধু বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, শক্ত নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ পুলিশি কার্যক্রম।
জনগণের দাবি
এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি চায়। তারা মনে করেন,জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।