
নিজস্ব প্রতিবেদক:-কিশোরগঞ্জ।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কৃষক মতি মিয়া (৬২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।গত ৩১ জানুয়ারি রাতে সিহারা গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব অভিযোগ—যেখানে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার পর নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আয়ুব আলীর নির্দেশে তার সহযোগী আবু সালাম ও হামিদুর রহমান পরিকল্পিতভাবে মতি মিয়াকে হত্যা করে।
ঘটনার দিন রাতে কাজের কথা বলে মতি মিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে নেয় আবু সালাম। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে তাকে জোরপূর্বক পাঠানো হয়। পরে রাতেই তাকে গলা কেটে ও মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
অনুসন্ধানী সূত্রে পাওয়া কললিস্টে দেখা যায়, হত্যার রাত ৮:৩০টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত আবু সালাম ও আয়ুব আলীর মধ্যে অন্তত ১৬ বার ফোনালাপ হয়।এর মধ্যে কয়েকটি কথোপকথন হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক হত্যা,মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
২০১৪ সালে আবদুর রশিদ মিয়া হত্যাকাণ্ডে আয়ুব আলী ও আবু সালামের নাম উঠে আসে। এবং ২০২২ সালে সাবেক ইউপি সদস্য হেলিম মেম্বারকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়।
মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।এলাকাবাসীর দাবি,একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘাগড়া বাজার ও আশপাশ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো। মতি মিয়াকে হত্যা করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষ শাহ আলম গংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে,যাদের অনেকেই ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি উঠেছে।
মামলার ১৩ জন স্বাক্ষীর মধ্যে বেশ কয়েকজন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
একজন স্বাক্ষী ঘটনার দিন চট্টগ্রামে ছিলেন,কয়েকজন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন,এমনকি নিহতের দুই ছেলের মোবাইল লোকেশনও ঘটনার সময় রাজধানীতে পাওয়া গেছে।এতে করে পুরো মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,আয়ুব আলীর ছেলে রাকিবের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়,Mission success, but next target number one.
যা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।
সূরতহাল প্রতিবেদনে মতি মিয়ার শরীরে দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে ১৭ জন মিলে তাকে হত্যা করেছে,যা নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর অসঙ্গতি।
মামলার এক নম্বর আসামি শাহ আলম বলেন,আমরা এই হত্যার সাথে জড়িত নই। প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.লিয়াকত আলী জানান,নিহতকে গলা কেটে ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।