
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘শহীদ জিয়া হল’পুনর্নির্মাণ করে আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।আবেদনটি করেছেন জাসাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনিসুল ইসলাম সানি।
আবেদনপত্রে বলা হয়,নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়াস্থ‘শহীদ জিয়া হল’কেবল একটি স্থাপনা নয়,এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস,জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। প্রায় ৬০.৬২ শতাংশ জমির ওপর ১৯৭৮ সালের ১০ মার্চ টাউন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।


পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে তাঁর মৃত্যুর পর একই বছরের ১৯ জুলাই তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার টাউন হলটির নাম‘শহীদ জিয়া হল’হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়,জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে ‘শহীদ জিয়া হল’ নামটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।
বর্তমানে দীর্ঘদিন অবহেলা ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।
আধুনিক কমপ্লেক্সের প্রস্তাব:-
প্রস্তাবিত ‘শহীদ জিয়া হল কমপ্লেক্স’-এ যেসব সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে,
দুই তলা বেইজমেন্ট কার পার্কিং,৫০০–৭০০ আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম,১২০০–১৫০০ আসন বিশিষ্ট আরেকটি অডিটোরিয়াম,ছোট-বড় দুটি আর্ট গ্যালারি,৪–৫টি সেমিনার কক্ষ।১৫–২০টি নাটক ও সাংস্কৃতিক মহড়া কক্ষ।
একাধিক লিফট ও সিঁড়িসহ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা
আবেদনকারীর দাবি,প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জবাসী একটি অত্যাধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র পাবে। একই সঙ্গে শিল্পী,সাহিত্যিক,নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য তৈরি হবে একটি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত ‘শহীদ জিয়া হল’ পুনর্নির্মাণ করে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আধুনিক সাংস্কৃতিক অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আবেদনটির অনুলিপি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব,গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী,প্রধান স্থপতি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।