
নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে এক আয়োজনে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তাদের নতুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ৪ খণ্ডের ডিজিটাল বীমা মেনুয়েল উন্মোচন করেছে। বীমা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর, তথ্যপ্রবাহ সহজীকরণ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইডিআরএ’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান,পরিচালক, এমডি/সিইও, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড.আহসান এইচ মনসুর। সভাপতিত্ব করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড.এম আসলাম আলম। এছাড়া আইডিআরএ’র লাইফ ও নন-লাইফ সদস্য এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
ডিজিটাল বীমা মেনুয়েল:
আধুনিক বীমা ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত
নতুন ওয়েবসাইটে সংযোজিত ৪ খণ্ডের ডিজিটাল বীমা মেনুয়েল দেশের বীমা খাতকে আরও স্বচ্ছ,প্রযুক্তিনির্ভর এবং তথ্যভিত্তিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে বীমা সংক্রান্ত নীতিমালা,গাইডলাইন ও প্রক্রিয়া সহজে জানা ও অনুসরণ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বীমা উন্নয়ন বৈঠক
উন্মোচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বীমা উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো ও অনিয়ম দূরীকরণে ৮ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ব্যাংক,আইডিআরএ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং বীমা খাতের জিডিপিতে অবদান বাড়বে বলে মত দেওয়া হয়।
আলোচনায় উঠে আসা ৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
১.নির্দিষ্ট বীমা কোম্পানি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
ব্যাংক থেকে ঋণ বা এলসি খোলার সময় গ্রাহকদের ওপর নির্দিষ্ট বীমা কোম্পানি থেকে পলিসি নেওয়ার চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। এটি গ্রাহকের স্বাধীন পছন্দের অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।
২.প্রিমিয়াম যাচাই ছাড়াই লোন ডিসবার্স ও এলসি ইস্যু
অনেক ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম পরিশোধ নিশ্চিত না করেই ঋণ বিতরণ বা এলসি খোলা হচ্ছে,যা ভবিষ্যতে ক্লেইম নিষ্পত্তিতে ঝুঁকি তৈরি করছে।
৩.এনলিস্টমেন্টের নামে হয়রানি
কিছু ব্যাংকের এনলিস্টমেন্ট প্রক্রিয়াকে অযৌক্তিক ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করা হয়,যা মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ ব্যাহত করছে।
৪.সীমিত কোম্পানিতে বীমা গ্রহণে বাধ্য করা
কিছু লিজিং ও ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান মাত্র ২–৩টি নির্দিষ্ট বীমা কোম্পানির বাইরে পলিসি গ্রহণে অনাগ্রহ দেখায়—যা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত।
৫.স্বার্থসংঘাত ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আত্মীয়স্বজনের নামে বীমা এজেন্সি নিয়ে কমিশন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়,যা স্বার্থসংঘাতের শামিল।
৬.কমিশনভিত্তিক অনিয়মে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভূমিকা
বীমা খাতে কমিশনকেন্দ্রিক অনিয়ম ও আস্থার সংকট তৈরিতে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
৭.ভুয়া বা সন্দেহজনক বীমা কভার নোট
বিকল্প সার্ভার ব্যবহার করে আইডিআরএ ডাটাবেসে নিবন্ধন ছাড়া কভার নোট ইস্যুর অভিযোগ উঠে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংককে কিউআর কোড স্ক্যান করে আইডিআরএ সার্ভারের সঙ্গে যাচাই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
৮.প্রিমিয়াম পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরাসরি ডেবিট ব্যবস্থা
ঋণ বিতরণ বা এলসি খোলার সময় গ্রাহকের হিসাব থেকে সরাসরি প্রিমিয়াম কেটে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানির হিসাবে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়, যাতে ভুয়া কভার ও ক্লেইম জটিলতা কমে।
বীমা খাতে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ওপর জোর
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম,মেনুয়েল এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার হলে দেশের বীমা খাত আরও গতিশীল,জবাবদিহিমূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব হবে।