
নিউজ ডেক্স:
চিত্রনায়িকা অঞ্জনাকে অনেক গঞ্জনা সইতে হয়েছে। তিনি কথাবার্তায় অপরিণত ছিলেন। তিনি সিনেমার কিংবদন্তি। কিন্তু তার আচরণ সুপারস্টারসুলভ ছিল না। একজন সাধারণ অভিনেত্রীর মতো ছিল তার চলাফেরা। অথচ তিনি বিখ্যাত সব ছবির অভিনেত্রী। তার ব্যবসাসাসফল ছবির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তাহলে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো এমন শিশুতোষ ছিল কেন? একদা লাক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর কেন ইদানিং হাস্যকর সব বিজ্ঞাপনে অংশ নিতেন? চলচ্চিত্র সংগঠনে তার কর্মকাণ্ড দেখে কেন দর্শকরা আমোদিত হতেন? কারণ, ততটা বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি তার হয়নি যতটা একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে তার হওয়ার কথা ছিল। তিনি ছিলেন পরিচালকদের হাতের পুতুল। অঞ্জনার মতো বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী আছেন, যারা মূলত নির্মাতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সেলুলয়েড যুগে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন। তারা যে বেফাঁস কথা বলে, উদ্ভট কাণ্ড করে সিনেমা অঙ্গন থেকে ছিটকে পড়েননি, তার কারণ খান আতা, সুভাষ দত্ত, আজিজুর রহমানদের অভিভাবকত্ব। সেকালে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাতেন নির্মাতারা। অভিনেত্রীরা কী করবেন, কী পরবেন, কী বলবেন তার নির্দেশনা পর্দার বাইরেও দিতেন প্রযোজক-পরিচালকরাই। ফলে শীর্ষ অভিনেত্রীরা পিছলে যাওয়ার আগে তাদের হাতটা ধরে ফেলতেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, দীলিপ বিশ্বাস, আজিজুর রহমান বুলিরা। পর্দায় যে অসামান্য অঞ্জনাকে আমরা দেখি, তিনি আসলে পরিচালকদের ইচ্ছের প্রতিরূপ। সম্প্রতি আমরা যে অনাকাঙিক্ষত অঞ্জনাকে দেখেছি, তার জন্য দায়ী পরিচালকদের দিকনির্দেশনার অভাব। নিজে থেকে জ্বলে ওঠার মতো, বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ করার মতো প্রতিভাবান ছিলেন না অঞ্জনা। তিনি ছিলেন অকর্ষিত জমির মতো যাকে উর্বর করেছিলেন, দর্শকদের চোখে তাকে মায়াবতী করে তুলেছিলেন কারিগর-নির্মাতারা। তাদের শূন্যতায় তৈরি হাহাকারই আমরা দেখেছি অঞ্জনার ব্যক্তিত্বে, উপস্থাপনায়।