
নিউজ ডেস্কঃদৈনিক বিজনেস প্রতিদিন।
বৃহস্পতিবার(২৩ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব শরিফা খান ও বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক চুক্তিতে সই করেন।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনহ্যান্সিং ইনভেস্টমেন্টস অ্যান্ড বেনিফিটস ফর আর্লি ইয়ারস প্রজেক্টে ২১ কোটি ডলার দেবে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক জানায়, যমুনা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ১০ দশমিক ২ কোটি ডলার ঋণ দেবে সংস্থাটি। যমুনা নদীর তীর সুরক্ষা এবং নাব্যতা উন্নত করতে সাহায্য করবে প্রকল্পটি।নদীর তীরের ক্ষয় এবং বন্যা থেকে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি রক্ষা করার পাশাপাশি মানুষকে বাস্তুচ্যুতি থেকে বাঁচাবে প্রকল্পটি। এর আওতায় নদীর পর্যাপ্ত গভীরতার সঙ্গে নেভিগেশন চ্যানেলগুলোকে উন্নত করা হবে,যা সারা বছর বড় কার্গো জাহাজ চলাচলে সাহায্য করবে। এ প্রকল্প অভ্যন্তরীণ পানি পরিবহন ও বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করবে এ নৌপথে।
প্রিপেইড মিটারিং সিস্টেমের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণ খাতে ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। গ্যাস ব্যবহারের দক্ষতা উন্নত করতে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারে আরও শক্তিশালী করবে। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে ১ দশমিক ২ মিলিয়নেরও বেশি প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়।প্রিপেইড গ্যাস মিটার এবং উন্নত মনিটরিং সিস্টেমে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
নগর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা উন্নয়ন প্রকল্পেও ২০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক, কারন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন,সাভার ও তারাবো পৌরসভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।মতো মশাবাহিত রোগসমুহ ডেঙ্গুরমত অসুস্থতা প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা উন্নত করবে এ প্রকল্পটি। এটি মশা নিয়ন্ত্রণ,চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও কাজ করবে। নারীদের জন্য প্রসবপূর্ব পরিষেবা উন্নত করতে সাহায্য করবে,যার লক্ষ্যমাত্রা আড়াই লাখ গর্ভবতী নারী।
পাঁচ প্রকল্পে ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ডলার ১১০ টাকা ৮১ পয়সা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ঋণের পরিমাণ ১২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। মাধ্যমিক শিক্ষা, নদীর তীর সুরক্ষা ও নাব্যতা বাড়ানো, শহুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং গ্যাস বিতরণের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেছেন,দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ এক হয়ে কাজ করছে।