
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে দুর্নীতি,অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কমার পরিবর্তে বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীদের লাগেজ চুরি,মালামাল হারানো, হয়রানি, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সেবার মান নিয়ে অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
এই প্রেক্ষাপটে ইন্টারন্যাশনাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা গত ২৪ জুলাই ২০২৬ রাতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এম. এ. রউফ (কাতার)।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে দুর্নীতি বিস্তার লাভ করে।
প্রধান অতিথি কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ বলেন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের কারণে দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনের লক্ষ্য ও অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। তিনি একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিস্তার নতুন প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। জনাব হাকিকুল ইসলাম নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে বই প্রকাশ ও ব্যাপক প্রচারণার প্রস্তাব দেন।
সভায় বক্তব্য দেন গাজীপুর সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক শব্দ দেশ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো.আব্দুল ওয়াহাব রিংকো। তিনি বলেন,এ ধরনের আলোচনা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
এদিকে,রংধনু নারী ফাউন্ডেশন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন বন্ধ,সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে। সংগঠনটির বার্তায় বলা হয়,নৈতিক শিক্ষা,পারিবারিক মূল্যবোধ,কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রধান ভিত্তি।
অনুষ্ঠানের পরিচালক ও সংগঠনের সদস্য সচিব এম. এ. রউফ বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাঁদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে বিমানবন্দরসহ সব সেবাখাতে দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সভা শেষে সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.এন.এম.ঈসা অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।