
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি | ৮ নভেম্বর ২০২৫, শনিবার
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ-এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায।
শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে “ভয়েস অব ল’ইয়ার্স বাংলাদেশ” আয়োজিত লংমার্চ সমাবেশে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভারতীয় ষড়যন্ত্রের কঠিন জবাব দেওয়া হবে
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন,সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বিএসএফ। নিরস্ত্র শান্তিপ্রিয় কৃষকদের হত্যা করে ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিএসএফের হাতে ৬০৭ জন নিহত ও ৭৬১ জন আহত হয়েছেন। শুধু আগস্টের পর ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে তারা।তিনি অভিযোগ করে বলেন,৭ মে থেকে ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশ-ইন চালিয়ে যাচ্ছে, যা এখনো বন্ধ হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন করার নীলনকশামোস্তফা আল ইহযায আরও বলেন, সম্প্রতি ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর উগ্রপন্থীদের দিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি, সেনাক্যাম্প স্থাপনে বাধা, ধর্ষণের নাটক সাজানোসহ বনভূমি দখল করে সশস্ত্র ঘাঁটি তৈরি — সবই বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্টের অংশ।
তিনি আরও বলেন,ভারত সমতলে সুবিধা করতে না পেরে এবার পার্বত্য চট্টগ্রামকে টার্গেট করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমেও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে কঠোর সতর্কবার্তা
১৯২৯ সালে ভারত নিজেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে শাসন বহির্ভূত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো উল্লেখ করে মোস্তফা আল ইহযায বলেন,তখন তারা উপজাতিদের জাতিসত্তার অস্তিত্ব মুছে দিয়েছিল,আর এখন সেই ভারতই মায়াকান্না করছে— যা সম্পূর্ণ ভণ্ডামি।
তিনি কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন,যদি ভারত বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ না করে, তবে আমরাও নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, আসাম, ত্রিপুরা,কলকাতা, দার্জিলিংসহ বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে অবিভক্ত বাংলা গঠনের আন্দোলন গড়ে তুলব।
সভায় উপস্থিত ছিলেন
লংমার্চ পথসভায় সভাপতিত্ব করেন ভয়েস অব ল’ইয়ার্স বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ জামান,
এবং সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন।
বক্তব্য দেন,অ্যাডভোকেট ইসহাক আলী,সভাপতি,জেলা আইনজীবী সমিতি,ব্যারিস্টার গোলাম মোস্তফা তাজ
অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন সম্রাট,অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দিন ফারুকী,অ্যাডভোকেট শাহ আহমদ বাদল,সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী।মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন মজুমদার, সরকারি আইন কর্মকর্তাসাংবাদিক জালাল আহমদ,আবদুল্লাহ আল নোমান মজুমদার,আবদুল আলীম প্রমুখ।