
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি – মো: রাসেল মোল্লা
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।নারায়ণগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকা এখন পরিণত হয়েছে ফুটপাত দখলের শহরে। হকারদের অবৈধ দোকানপাট দখলে ফুটপাত ক্রমেই অচল হয়ে পড়েছে, আর এতে পথচারীরা বাধ্য হচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে হাঁটতে। প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
ফুটপাত নয়,যেন বাজারের চেহারা:-
প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফুটপাত ও রাস্তার ধারে গড়ে ওঠে শতাধিক হকারের দোকান। কাপড়, ফল-মুল, জুতা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান দখলে নেয় পুরো পথচারী করিডোর।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না,সব জায়গা দোকানে ভর্তি। রাস্তায় নামলেই গাড়ি চাপার ভয়।
ব্যবসায়ী বনাম জনস্বার্থ,অনেক হকারের দাবি, দোকান ভাড়া ও জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে তারা ফুটপাতে বসতে বাধ্য। কিন্তু এই বাস্তবতা জনস্বার্থের সঙ্গে তৈরি করছে ভয়াবহ সংঘাত।
সচেতন মহল বলছে—
হকারদের জীবিকার পাশাপাশি পথচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে, নয়তো পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে।
প্রশাসনের জনবল সংকট:
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুফাক্ষির জানান,আমাদের জনবল সীমিত। বারবার অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু তারা আবার ফিরে আসে। ফুটপাত নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে।
জনদুর্ভোগের শেষ কোথায়?
প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি
ছাত্র-ছাত্রী,নারী,বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ
সুচিন্তিত সমাধান জরুরি:
সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের আহ্বান—
নির্দিষ্ট হকার জোন নির্মাণ
নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি
ফুটপাত পুনরুদ্ধার ও জনসচেতনতা কর্মসূচি
ভুলতা গাউছিয়া শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়—এটি দেশের ফুটপাত দখল সংকটের এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার কত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পথচারীদের জীবন আবারও স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।