রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উত্তরায় নিজ বাসায় খুন নারী চিকিৎসক ডা.সারা রোকসানা, গ্রিল কেটে ঢুকে হত্যার অভিযোগ,দ্রুত বিচারের দাবি। চৌহালীতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ, চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করলেনজেলা প্রশাসক-আমিনুল ইসলাম। স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেন -এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। নারায়ণগঞ্জ সদরে মাদক,ভূমিদস্যু ও ভেজালবিরোধী অভিযানে কঠোর ইউএনও-এস এম ফয়েজ উদ্দিন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা,২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,০৬০ কোটি টাকার পরিকল্পনা। রূপগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার,জব্দ মোটরসাইকেল। মদনপুরে ৩ কেজি গাঁজাসহ আটক দুই,বন্দর থানার মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ২০৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির আশঙ্কায় হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা,এনসিপির সমাবেশে বাধা। নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত, অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধানে নির্দেশনা।

বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন এর শ্রমিকের প্রত্যাশা ২৪শে গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক আলোচনা সভা।

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৯৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

২৯শে নভেম্বর সকাল১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ৩য় তলায় বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন কতৃক ২৪এর গণঅভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ প্রমিক কর্মচারী ফেডারেশদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণঅভু্যুত্থান ও প্রমিকের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত সন্ধেয় আলোচকবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীদের জানাই শুভেচ্ছা। এমন এক সময়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মাত্র সাড়ে তিন মাস আগে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার এক ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সরকারের কাছে স্বাভাবিকভাবেই অভ্যুত্থানকারী জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাপকভাবে শোষিত, অত্যাচারিত, নিপীড়িত মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দিয়েছে মুক্তির প্রত্যাশায়। ফলে ছাত্রদের মধ্যে শুরু হওয়া বিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছে। ছাত্রদের সাথে প্রাণ দিয়েছে শ্রমিক, দোকান কর্মচারি, ছোট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। ছাত্র বাদে একটা বড় অংশই শ্রমজীবী মানুষ। এর মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, দোকান কর্মচারী, হোটেল শ্রমিক, ডেলিভারী ম্যান, হকার, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ আছেন। বিগত হাসিনা সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে দুর্দশায় পড়েছিলো শ্রমজীবী মানুষ। দিনে ১২-১৬ ঘণ্টা উনয়াক্ত পরিশ্রম করেও শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে পেট পুরে খেতে পারে নি। দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস উঠা সাড়ে ১২ হাজার টাকার সস্তা মজুর পোশাক শ্রমিকরা তাদের মজুরি বাড়ানোর ন্যায্য দাবি নিয়ে যখনই রাজপথে লড়াই সংগ্রামে নেমেছে, তখনই স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে গুলি, টিয়ারগ্যাস, মামলা, গ্রেপ্তার চালিয়ে সরকার তা নির্মমভাবে দমন করেছে। যেকোন শ্রমিক আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে দমন করার পথ নেওয়া হয়েছিলো। শ্রমিকদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি, সংগঠিত হওয়ার জন্য ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল, চিনিকল বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিককে বেকার করা হয়েছে। রাষ্ট্র কাজের ব্যবস্থা করেনি, বরং কাজ না পেয়ে স্বল্প পুঁজি ব্যয় করে রিক্সা-ব্যাটারি রিক্সা চালিয়ে, হকারি করে যে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলো, তাদেরও উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ করেছে। তাজরীন, রানা প্লাজা, বিএম ডিপোসহ একের পর এক কারখানায় মালিকের অবহেলায় অগ্নিকান্ডে শ্রমিকদের প্রাণহানি ঘটলেও হত্যাকারী মালিকের বিচার হয়নি। শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা কয়েকবার সংশোধিত হলেও, শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী পূর্বের অগণতান্ত্রিক ধারা বহাল রাখা হয়েছে, বরং শ্রমিকদের অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে মালিকদের স্বার্থে। শ্রমিকদের ধর্মঘট করার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সংসদে বিল পাশ করা হয়েছিল। শ্রমিক

দেখেছে, শ্রম আইন, পুলিশ, আদালত সব মালিকের পক্ষে। সরকারের কথিত ‘উন্নয়ন’ এ মালিকের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে, আর শ্রমিক ক্ষোভের সাথে দেখেছে তার দুর্দশা বেড়েছে। সর্বশেষ গার্মেন্টস শিল্পে ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ৪ জন শ্রমিককে। হাজার হাজার শ্রমিকের নামে মামলা দেওয়া হয়। ফলে বুকে জমে থাকা এ ক্ষোভ, বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকুতি শ্রমিককেও ছাল জনতার আন্দোলনে সামিল করেছে। বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক শত শ্রমিক জীবন দিয়েছে, আহত হয়েে বাজারে হাজারে। এ গণঅভ্যুত্থানে মিশে আছে শ্রমিকের রক্ত। ফলে গণঅভ্যুথান পরবর্তী বাংলাদেশ মালিকশ্রেণী ভাষণে নিপীড়িত শ্রমিকদের বুকের ব্যথা, ক্ষোভ, চাওয়াকে মূল্যায়ন করবে, এটাই ছিল শ্রমিকদের প্রত্যাশা।

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন ও দুর্নীতি-লুটপাট-দলীয়করণে দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থাসহ সমস্ত প্রতিষ্ঠানই প্রায় ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছেছে। ফলে বাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি জোরেশোরে উঠেছে। গণঅম্লত্থান প্রত্যক্ষ করে পুঁজিপতিগোষ্ঠীও তাদের সামগ্রিক গোষ্ঠীস্বার্থে বুর্জোয়া রাষ্ট্রটিকে ভবিষ্যতে স্থিতিশীল রাখতে বুজোঁয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার চাইছে। বুর্জোয়াদের সংস্কার চাওয়া আর সাধারণ শ্রমজীবী জনগণের সংস্কার চাওয়া আপাতদৃষ্টিতে এক মনে হলেও, সে চাওয়ার উদ্দেশ্যে মৌরিও তফাৎ আছে। সাধারণ শ্রমজীবী জনগণের চাওয়া হচ্ছে- সে পরিবারসহ ভালোভাবে চলার নিশ্চয়তা পাবে, কাজ পাবে, শ্রমের ন্যায্য মজুরি পাবে, নিরাপত্তা পাবে, বিচার পাবে, অধিকারের কথা ভয়মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে বলতে পারবে, শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা পাবে। যত সংজার হোক, শ্রমজীবী জনগণের এ চাওয়া মালিকশ্রেণী পরিচালিত কোন পুঁজিবাদী বাষ্ট্রের সরকার পূরণ করতে যদিও সরকার গত দুইমাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশকিছু সংস্কারের উদ্যোগ দিয়েছেন নিচ্ছেন। বাম উননেছা উপদেষ্টা প্রমিক সংগঠনগুলোর সাথে বসে তাদের মতামত নিয়েছেন। পোশাক গাতে মজুরি পুনঃনির্ধারণের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। বন্ধ চিনিকল চালুর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে, যেখানে আমাদের সংগঠনসহ জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দকে যুক্ত করেছেন। শ্রম সংস্কার কমিশন করা হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে শ্রম আইন সংস্কার করার কথা বলা হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, এ কমিশন গণতান্ত্রিকভাবে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন ও সমস্ত সেক্টরের শ্রমিকদের মতামত সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে যথাযথ প্রস্তাবনা পেশ করবে, যা শ্রমিকের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছে। পোশাক শ্রমিকরা ছাড়াও ফার্মাসিউটিক্যাল, সিরামিক, টাইলস, কোমল পানীয়, বেকারিসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা তাদের স্ব স্ব দাবিতে নেমেছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা, জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে সাইন নিয়ে সম্পূর্ণ পাওনা আত্মসাৎ করা, বেতন ভাতা নিয়মিত পরিশোধ না করা, উৎপাদন বাড়াতে অস্বাভাবিক চাপ দেওয়া-নির্যাতন করা-এগুলো শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের প্রায় নিত্যদিনের অভিযোগ। ঔষধ কোম্পানিতে চাকুরীরত এক শ্রমিকের ভাষ্য ‘৮ ঘন্টা চাকুরি করে দৈনিক মজুরি পাওয়া যায় ২২০ টাকা।’ তাদের দাবি জানাবার কোন উপায় ছিল না। কিছু দাবি করতে চাইলে পুলিশি নির্যাতন ও ছাঁটাই চলত। অনেক শ্রমিকরা জানিয়েছে, তারা কয়েক মাসের বকেয়া বেতন, ওভার টাইমের টাকা, সার্ভিস বেনিফিট, বকেয়া বোনাস, হাজিরা বোনাস-টিফিন ভাতা বৃদ্ধি ইত্যাদি দাবিতে নেমেছে। তাদের প্রায় সব দাবিই ছিল ন্যায্য এবং শ্রম আইন অনুযায়ী এমনিতেই পাওয়ার কথা ছিল। শ্রমিকদের এসব ন্যায়সঙ্গত দাবির পাশাপাশি পতিত আওয়ামী সমর্থক মালিকদের চক্রান্ত, জুট ব্যবসায়ীদের দখল-পাল্টা দখলের দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা। সংগৃহীত তথ্যসমূহ সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণের মাধ্যমে কারণগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করা। উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানে সঠিক কৌশল নির্ধারণ করা। অথচ পুরো বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলে শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত দাবি-দাওয়াকেও চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা, কারখানা ভিত্তিক আলোচনা করে কার্যকর সমাধানের পথে না গিয়ে সরকার দমন করার পথে এগিয়েছে। শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পরামর্শে ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এ সরকার ও মালিক ১৮ দফা মেনে নেওয়ার শর্তে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুসারে ১০ অক্টোবর, ২০২৪ এর মধ্যে শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করার শর্ত ছিল। মালিকরা সেই চুক্তি ভঙ্গ করে। আজও অনেক কারখানা শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেনি। মালিকরা এই ১৮ দফা চুক্তি ভঙ্গ করেই চলেছে। সরকার মালিকদের এ চুক্তি মানতে বাধ্য করছে না। মালিকদের বিরুদ্ধে সরকারের ভূমিকা কার্যত নীরব দর্শকের। শ্রমিকরা যখন ত্রিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত পূরণের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে, তখন তাদের যৌথবাহিনী দিয়ে

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শ্রমিক-ছাত্রসহ সকল হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার করার জোর দাবি জানাচ্ছি। শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত তৈরি করা, শহীদ পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতা ও আহতদের চিকিৎসার তার রাষ্ট্রকে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যার দ্রুত বিচার করার মানি আনাচ্ছি। একইসাথে ২০২৩ সালে মজুরি আন্দোলনে হাসিনা সরকারের গুলিতে চারজন শ্রমিক হত্যার বিচার শুরু করার দাবি জানাচ্ছি। বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলন দমনের জন্য আগোপনরত শ্রমিকর শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে সরকার ও মালিকপক্ষের সংয়েররকৃত সকল হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক সম্প্রতি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে গৃহীত ১৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করার দানি জানাচ্ছি।

সংশোধিত শ্রম আইন ও বিধিমালার অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, সিন্ডিকেট ভাঙ্গা ও শ্রমিকের জন্য রেশনিং বাবস্থা চালুর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে মালিক ও পুলিশের হামলা-মামলা-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ বিলুপ্ত করতে হবে।

ন্যূনতম জাতীয় মজুরি কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা করতে হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা-ভ্যান- ইজিবাইকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট দিতে হবে। পুলিশি হয়রানি ও অন্যায়ভাবে জরিমানা আদায় বন্ধ করতে হবে।

বন্ধ ঘোষিত সকল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল-চিনিকল আধুনিকায়ন করে চালু কর। স্থায়ী ও বদলিসহ সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন-বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ কর। বিরাষ্ট্রীয়করণ, পিপিপি নীতি, লিজ প্রথা বাতিল করতে হবে। তিন মাস বেতন দিতে না পারা বা অন্য কারণে বন্ধ কারখানা জাতীয়করণ করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালু করতে হবে।

অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চা বাগানের বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও সব বন্ধ চা বাগান চালু করা, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা, চা শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী গেজেট ২০২২ সহ শ্রম আইনের সব বৈষম্যমূলক ধারা বাতিল করা। চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।
সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি মানতে হবে এবং সকল শ্রমিকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নির্মাণ শ্রমিক, গৃহশ্রমিকসহ সকল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের পরিচয়পত্র, কর্মস্থলে নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ ও উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনায় নিহতদের এক জীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিপূরণ আইন সংশোধন করতে হবে, আধুনিক করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মানস নন্দী,রাশেদ শাহরিয়ার,গার্মেন্টস লাইফুল ইসলাম।কাঁটারীচালিত মানিক হোসেন,রিজা,চিনিবাল আবদুল ওহাব চৌঃ,পাটকল গোফরান মিয়া,মীরাব্দুল ইসলাম।অজিত রায়।
রেডিমেড দর্জি-ভেইদ্রিস,পরিচ্ছন্নতা বার্মি- সুরেশ বাসফোর/পাখী রাখেন হাওলাদারের,হান্নান হাওলাদার,পরিবহন সাইদুর রহমান,গ্রামীন ব্যাংকএর আবদুল্লাহ আল মামুন,রংমিস্ত্রি অশোক গিলবার্ড,নির্মাণ শ্রমিক,সেলুন চা শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন,তামজিদুল ইসলাম – ভূন্দির। ইচ্ছি নিয়ার (আইটি) পল্লী বিদ্যু নী বিদ্যুৎ সমিতি,তাহমি আখতার, রিলিং সহকারী পরী বিদ্যুৎ

চা শ্রমিক দলিপুর এহসান,বাংলাদেশ ফিজিও থেরাগী এসোসিয়েশন। স্বজন ও অতিভোবক প্ল্যাটফরমের সংগীত,
রোশাহিদা সুলতানা,আবদুল্লাহ আল কাফী রণ আগাম্য, জাহজ শ্রমিক কর্মচারী সংযের পররুদই।ডা. দলিলুর রহমান
ব্যারিষটার জ্যোতির্ময়। আবু সাইদ খান,ওমাসুদ রানা।

Share this news as a Photo Card

বিজনেস প্রতিদিন ২৪ ডট কম প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
কপিরাইট © ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
themesba-lates1749691102