
চট্টগ্রাম প্রতিনিন্দ:
চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩১৩ জনে, আর প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। ৫০ শয্যার হাম ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮০ শিশু, ফলে অনেক ক্ষেত্রে এক শয্যাতেই দুই শিশুকে রাখতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৯টি ওয়ার্ডকে হামের ‘হটস্পট’হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো জালালাবাদ, চান্দগাঁও,উত্তর পাহাড়তলী, লালখান বাজার,পূর্ব বাকলিয়া, আলকরণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর,দক্ষিণ হালিশহর এবং উত্তর পতেঙ্গা।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। অধিকাংশই শিশু হলেও কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্কও আক্রান্ত হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালের হাম ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা চরম চাপের মুখে পড়েছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন,আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। এমনকি রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও হামে আক্রান্ত হয়েছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী,আক্রান্তদের মধ্যে মহানগর এলাকায় ২ হাজার ২১৫ জন এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৯৮ জন রয়েছেন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১০ জন উপসর্গ নিয়ে এবং তিনজন পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা যান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে ইতোমধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।