
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ নিয়ে বিতর্ক,আহসান এইচ মনসুরের বিদায়,নতুন নিয়োগে প্রশ্নের ঝড়।
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন চ্যালেঞ্জের মুখে,ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন— যাদের গত ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের চেয়ে উপস্থাপনাভিত্তিক কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে,তারা দায়িত্বে বহাল থাকলে প্রমাণিত দক্ষ কর্মকর্তা আহসান এইচ মানসুর কেন পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি,আহসান এইচ মনসুর দেশের অর্থনীতিকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে টেনে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাই তার বিদায়ের ধরনকে অনেকেই‘লজ্জাজনক’ও‘দুঃখজনক’হিসেবে অভিহিত করছেন।
এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে,বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি
(বিএনপি)নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে,তারিক রহমান,এর নেতৃত্বে ফলপ্রসূ কাজ করা কর্মকর্তাদের প্রতি এটাই কি আচরণ?
এদিকে নতুন গভর্নর হিসেবে মনোনীত মোস্তাকর রহমান নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। নিয়োগের আগেই তিনি নিজের লিংকডইন প্রোফাইলে নতুন পদবি যুক্ত করেছেন— যা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আরও জানা গেছে,অতীতে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান,এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন— বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া নথিপত্রে দেখা গেছে,মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) নতুন গভর্নর মনোনীত ব্যক্তির মালিকানাধীন তৈরি পোশাক কারখানা হিরা সোয়াটার্স লিঃ,এর জন্য প্রায় ৮৯ কোটি টাকার(৬.৮ মিলিয়ন ডলার)চাপযুক্ত ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। নিয়োগের কয়েক মাস আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল নীতির আওতায় এই সুবিধা দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে,গভর্নর পদে নিয়োগ,
ঋণ পুনঃতফসিল এবং বিদায়ী কর্মকর্তার ভূমিকা— সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এসব প্রশ্নের পরিষ্কার ব্যাখ্যা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য সংগৃহীত:
জুলকার নাইন সাইর।