
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গভীর রাতে সংঘটিত এক ভয়াবহ গরুচুরির ঘটনায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক রাতেই একটি খামার থেকে আটটি মোটাতাজা ষাঁড় গরু চুরি করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার নিজমাওনা গ্রামের পিওর প্লাস এগ্রো নামের একটি গরুর খামারে। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন খামার মালিক।
কোরবানির ঈদের প্রস্তুতির মধ্যেই সর্বনাশ
খামার মালিক মো. নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আজমত আলী) দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণ করে আসছেন। তার খামারে বিভিন্ন জাতের মোট ৫৯টি গরু ছিল, যেগুলো আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল।
নজরুল ইসলাম জানান,মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে গরুগুলো শেষবারের মতো দেখে খামারের এক পাশে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। এরপর বুধবার ভোররাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র খামারের পেছনের দিকের তালা ও শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
চোরেরা অত্যন্ত কৌশলে খামার থেকে ৮টি ষাঁড় গরু একটি পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
চিৎকার করেও ঠেকানো যায়নি চুরি
ভুক্তভোগী খামারি মো.নজরুল ইসলাম বলেন,
“রাত ২টা পর্যন্ত আমি জেগে ছিলাম। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখি পেছনের তালা কাটা এবং কয়েকজন লোক গাড়িতে গরু তুলছে। আমি চিৎকার শুরু করলে ওরা দ্রুত গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন,চুরি হওয়া গরুগুলোর রং সাদা,লালচে-ধূসর ও হালকা কালো। অনেক কষ্ট করে তিলে তিলে খামারটা গড়ে তুলেছিলাম।
কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন,এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গরুগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। গরুচুরি রোধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।
খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক
এ ঘটনার পর নিজমাওনা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।