
স্টাফ রিপোর্টার:মোঃ সুলতান
গাজীপুর,শ্রীপুর |২৪ ডিসেম্বর।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) নেতাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরিদ সরকার জাসাস গোসিংগা ইউনিয়ন শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর এলাকার কে, বি, এম ইটভাটার পাশে ফরিদ সরকারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফরিদ সরকার শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের জামাল সরকারের ছেলে। তিনি জাসাসের একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। তার হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় নেতাকর্মীরা এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা বলে দাবি করেছেন।পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যা-নিহতের পরিবার।
নিহতের বাবা জামাল সরকার বলেন,আমার ছেলে মাটি, ইট ও বালির ব্যবসা করত। রাত দশটার দিকে খাবার খেয়ে লতিফপুর ইটখলায় যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। রাত পৌনে চারটার দিকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমার ছেলেকে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
কীভাবে ঘটনার খবর পান জনপ্রতিনিধিরা
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য খুরশিদ আলম রফিক প্রধান জানান,কে,বি,এম ব্রিকসের ম্যানেজার অজিদ সরকার তাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। এরপর তিনি বিষয়টি নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেন।
কে,বি,এম ব্রিকসের ম্যানেজার অজিদ সরকার বলেন, নৈশপ্রহরী আমাকে জানায় বাইরে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বের হয়ে দেখি ফরিদ সরকার। আশপাশে কাউকে দেখা যায়নি।
নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম বলেন,আমি এসে দেখি একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তখন আশেপাশে কাউকে দেখিনি।
জাসাস ও বিএনপির তীব্র নিন্দা
শ্রীপুর উপজেলা জাসাসের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হেলাল প্রধানসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন,মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।