
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় চাঁদাবাজি,ভাঙচুর,লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নলছিটি শহর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চুন্নুর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার সহযোগীরা নলছিটি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,নলছিটি উপজেলার সূর্যপাশা এলাকায় অবস্থিত জামিয়া মোহাম্মদিয়া জয়নায়েল আবেদীন কওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন চুন্নু। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সম্প্রতি মাদ্রাসার দানবাক্স ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে।একই সঙ্গে মাদ্রাসা ভবন নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ গতকাল দিনের বেলায় দলবল নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে চারা ও ফুলের গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়,গত ৫ তারিখের পর থেকে আনোয়ার হোসেন চুন্নু বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, নলছিটিতে অমির হোসেন আমুর পিএস শাওনের মালিকানাধীন শাওন এন্টারপ্রাইজ-এর একটি চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজে সরকারের পতনের পরদিনই প্রকাশ্যে লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ টন রড ও ৫০০ বস্তা সিমেন্ট ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান,চুন্নুর নাম প্রকাশ হলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,চুন্নু ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা সন্ত্রাস,মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন,চুন্নু গং-এর কারণে পুরো এলাকা জিম্মি হয়ে আছে। এখনই যদি আইনের আওতায় না আনা যায়,তাহলে যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন চুন্নুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান,
লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ,নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে,এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নলছিটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।