ডেস্ক রিপোর্ট | অর্থনীতি সংবাদ
তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিদ্যমান আস্থাহীনতা আরও গভীর হচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন মিউচুয়াল ফান্ড নীতিমালা নিয়ে। বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাড়াহুড়ো করে নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে পুরো খাতই এখন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
দেশের মূলধন বাজারে এক সময় মিউচুয়াল ফান্ডগুলো স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করত। এসব ফান্ড সাধারণত মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করে নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদান করত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএসইসির নীতি ও পদক্ষেপের কারণে এই খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে,সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের সময় থেকেই ভালো শেয়ারের বদলে ‘জাংক শেয়ার’-এ বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হয়। ‘রিং শাইন’‘ফরচুন সুজ’সোনালী পেপার’-এর মতো দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে সিন্ডিকেটের প্রভাবে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় ‘ফ্লোর প্রাইস’ নীতি, যা বাজারে কৃত্রিম অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। বর্তমান কমিশনের কঠোর প্রভিশনিং রুল ও ফ্লোর প্রাইসের কারণে ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিওর মান কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মতে, অধিকাংশ বিনিয়োগকারী উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে এখন লোকসানে আছেন। এই অবস্থায় রিডেম্পশন বাধ্যতামূলক হলে ফান্ডগুলোর নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) কমে যাবে। রিডেম্পশন ট্যাক্স ও খরচ বাদ দিলে বিনিয়োগকারীরা মূলধনের অল্প অংশই ফেরত পাবেন, যা সামগ্রিক বাজারে আস্থার সংকট আরও বাড়াবে।
শিল্পে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ:
অ্যাসেট ম্যানেজাররা অভিযোগ করেছেন, মাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের দায়ে পুরো শিল্পকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। ২৫০ কোটি টাকার অনিয়মের জন্য প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতির মুখে পড়ছে। অতীতে ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের অনিয়মেও এমন সেক্টরব্যাপী দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা:-
গত ১৫ বছরে মেয়াদী মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বেশি ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এই ফান্ডগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীরা স্থায়ী আয়ের একটি বড় উৎস হারাবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কমিশন ও অ্যাসেট ম্যানেজারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়লে এর ক্ষতি শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীর ঘাড়েই পড়বে।
উন্মুক্ত আলোচনা ও সমঝোতা প্রয়োজন
বিনিয়োগকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বিßএসইসি যেভাবে “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০২৫বাস্তবায়নের
স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে, উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে।
পুঁজিবাজারের অন্যতম স্তম্ভ মিউচুয়াল ফান্ড খাত আজ নীতিনির্ধারকদের পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত ও অপরিকল্পিত বিধিমালার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় কমিশনের উচিত তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত এড়িয়ে আলোচনাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ফিরে আসা।