স্টাফ রিপোর্টার:
১৫২ মাস পরও ন্যায়বিচার মেলেনি—‘বিচার বন্ধ করে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল’,অভিযোগ ত্বকীর পিতার।
নারায়ণগঞ্জে আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার পুত্র অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ত্বকীর পিতা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।
শনিবার সন্ধ্যায় (৮ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ত্বকী হত্যার ১৫২ মাস পূর্তিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এ দাবি জানান।
রাব্বি বলেন,সম্প্রতি তদন্তকারী সংস্থা র্যাব জানিয়েছে, ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ, শিগগিরই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আমরা চাই, সেই অভিযোগপত্রে হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমান,তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান ও ক্যাডার শাহ নিজামসহ সব আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
তিনি আরও বলেন,২০১৪ সালে র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিল তদন্ত শেষ হয়েছে, কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে ওসমান পরিবারকে ‘দেখে রাখার’ ঘোষণা দেওয়ার পরই বিচার প্রক্রিয়া থেমে যায়। এতে দেশের বিচারব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাফিয়াতন্ত্র।”
রফিউর রাব্বি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ত্বকী হত্যা মামলায় আদালত থেকে ৯৮ বার সময় নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই শততম তারিখের আগেই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হোক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন,আমরা শুধু ত্বকীর নয়—সাগর-রুনি, তনু, আশিক, চঞ্চল, মিঠু,বুলুসহ সব হত্যার বিচার চাই। শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবে এই বিচারগুলো আটকে দেওয়া হয়েছিল। এখন অন্তর্বর্তী সরকারকে এসব হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন,আমাদের আন্দোলন থামবে না। একযুগ ধরে আমরা ত্বকীর জন্য ন্যায়বিচার চাইছি। এখন সময় এসেছে হত্যাকারীদের আইনের মুখোমুখি করার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থর,পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিন।
বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু,সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা জিয়াউল ইসলাম কাজল, সিপিবি জেলা সভাপতি শীবনাথ চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন,বাসদ জেলা সংগঠক সেলিম মাহমুদ,বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মাহমুদ হোসেন,এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আহমেদুর রহমান তনু এবং সামাজিক সংগঠন সমমনাqpqa, লাল q’র সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।
বক্তারা বলেন,ত্বকী হত্যার বিচারহীনতা শুধু এক পরিবারের ক্ষোভ নয়—এটি পুরো জাতির বিবেকের প্রশ্ন। এখনই সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার।