রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ), ১৫ অক্টোবর ২০২৫ —
রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নলপাথর এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণের অযুহাতে জনসাধারণকে জোর করে চাঁদা আদায় করছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদল শেখেরনেতা বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে বলা হয়, কাঞ্চন পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক বাবুল মিয়া ও তার সমর্থকদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০০ — ১,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবী করছেন এবং অনেকে বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন,বাবুল মিয়া ও তার বাহিনী (যাদের মধ্যে সবুজ, আজহার নামের কিছু লোকও রয়েছেন) বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বলে ‘আন্ডারপাসের কাজ হবে — ঘর প্রতি এতটাকা প্রদান করতে হবে’। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বলেন, “আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা দাবি করা হয়েছে; আমি ২০০ টাকা দিই বললে হুমকি দেওয়া হয়। রাস্তা সরকারের দায়িত্ব, আমাদের কেন টাকা দিতে হবে?” অপর এক মহিলা বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ —
চাঁদাবাজি চলছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে; প্রতি পরিবারের কাছ থেকে অনুৎপাদিত চাহিদা।
টাকা কোথায় খরচ হবে,কোন প্রকল্প আওতায় কাজ হবে — এ বিষয়ে কোন প্রমাণ বা নথি দেখানো হয়নি।
যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে; নিরাপত্তাহীনতার শিকার স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া:-
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাংবাদিকদের বলেন,যদি আমরা অভিযোগ পাই,সেটি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন,অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে কারও যদি গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ পাওয়া যায় — আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও শাসক দলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে,পক্ষের কেউ মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি (প্রয়োজনে এখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যুক্ত করা হবে)
সরকারী সড়ক ও পল্লী অবকাঠামো নির্মাণ-রক্ষণাবেক্ষণ সরকারি বরাদ্দ ও অনুমোদিত ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া উচিত; স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংগঠনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা আদায় করলে তা আইনগত ও নৈতিকভাবে দায়সাপেক্ষ। এমন ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত এবং স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত না করলে স্থানীয়দের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
দাবি ও প্রত্যাশা:স্থানীয়রা দাবি করেছেন — তারা জানতে চান।
১.বাবুল ও তার সমর্থকদের সংগ্রহকৃত অর্থ কোন সরকারি/অসম্প্রদায়িক প্রকল্পে নিবে?
২.সরকারি কোনো নথি বা অনুমোদন আছে কি না?
৩.প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও দিন দিন বাড়তে থাকা দুর্ব্যবহার নিয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
পাঠকের জন্য পরামর্শ (সংক্ষেপে):
যদি আপনার কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়, এলাকাভিত্তিক ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা রাখুন।
স্থানীয় থানায় অভিযোগ থাকলে তা রেকর্ড করুন।
ঘটনার প্রমাণ (চিঠি, টাকার আদায়ের রশিদ/রেকর্ড, ভুক্তভোগীর মোবাইল রেকর্ডিং) সংরক্ষণ করুন।
প্রতিবেদন ছাপানোর জন্য আমাদের জেলা থেকে ছবিঃ (১) অভিযোগকৃত এলাকা — নলপাথর সড়কের চিত্র, (২) ইউএনও বা থানার সামনে অপেক্ষমান স্থানীয়দের ছবি, (৩) অভিযোগকারী ব্যক্তির অনিগ্রহণযোগ্য চাহিদা উল্লেখ করে বোর্ড/লিফলেট— এই ছবিগুলো সংবাদকে আরও শক্ত করতে সাহায্য করবে। (ফটো সংগ্রহের অনুমতি হলে সংযুক্ত করুন।)
স্থানীয় জনগণের দাবি — সরকারের রাস্তা সরকারই নির্মাণ করবে,ব্যক্তিগত সুবিধার্থে জনগণের উপর আরোপিত চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। আমাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে প্রমাণপত্রসহ লিখিতভাবে জবাবদিহি চাইবে এবং ঘটনার আপডেট পাওয়া মাত্র রিপোর্টে জুড়ে দেওয়া হবে।