আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনা জেলার আমতলীতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটিতে। নতুন ঘোষিত কমিটিতে সহ-সভাপতির পদে জায়গা পেয়েছেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট একেএম সামসুদ্দিন সানু ওরফে কমান্ডার সানু।
বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ,এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে "চরম রাজনৈতিক দুর্নীতি" এবং "দলীয় আদর্শ বিরোধী" বলে আখ্যায়িত করেছেন। বরগুনা জেলা ও আমতলী উপজেলা বিএনপি-নেতারা এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা কমিটি নিয়ে বিতর্ক,বিএনপি’র অনুসারী জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম (কাস্টমস নুরু) এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তালুকদারকে ঘিরেও উঠেছে বিতর্ক। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ—এই দুই নেতা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিনিময়ে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে,বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা দারুল ইসলামকেও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি করা হয়েছে, যা আরও বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য,আমতলী উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি মামুন বলেন,এটি একটি লজ্জাজনক ও বিব্রতকর ঘটনা। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দাবি জানাই,অবিলম্বে বর্তমান বিতর্কিত জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে প্রকৃত বিএনপি অনুসারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম সিদ্দিকীসহ অন্যান্য নেতারাও একই দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদকের সাফাই,জেলা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন,দীর্ঘদিন আমরা মাঠে না থাকায় কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ভুলবশত আওয়ামী লীগ নেতারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন,দ্রুত সংশোধন করা হবে।”
তবে অ্যাড. সামসুদ্দিন সানুকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
গত ২০ আগস্ট কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বরগুনা জেলার ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংশোধিত কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে।