নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন একমাত্র জীবিত ভিকটিম রুমা আক্তার।প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উপদেষ্টার বাবার নাম উঠলেও পুলিশ দিচ্ছে না গুরুত্ব।
ঢাকা,৪ আগস্ট ২০২৫:
কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ত্রিপল হত্যাকাণ্ডে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেনের গ্রেফতার দাবি করেছেন একমাত্র জীবিত ভিকটিম রুমা আক্তার। জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুমা তার মা, ভাই এবং বোনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পেছনে আসিফের বাবার প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
আমার চোখের সামনে আমার পরিবারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রুমা আক্তার জানান,গত ৩ জুলাই ভোরে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার মা,ভাই ও বোনকে হত্যা করে একদল ভাড়াটে ও স্থানীয় সন্ত্রাসী।তিনি নিজেও হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। তার মাথায় ৭২টি সেলাই এবং শরীরের প্রতিটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
তিনি অভিযোগ করেন,যদিও থানায় মামলা করা হয়, তবে প্রধান আসামি হিসেবে উপদেষ্টার বাবা বিল্লাল হোসেনের নাম বাদ দেওয়া হয়। মামলার বাদী করা হয় তার বোন রিক্তা আক্তারকে, যিনি তখন চরম মানসিক অবস্থায় ছিলেন। ফলে প্রকৃত অপরাধীদের অধিকাংশের নামই এজাহারে উঠে আসেনি।
নিরপেক্ষ তদন্ত,মামলা পুনঃনিরীক্ষণ ও সকল অপরাধীর গ্রেফতার চাই"।
সংবাদ সম্মেলনে রুমা বলেন—
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবার ছত্রছায়ায় এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে।শিমুল চেয়ারম্যান,বাচ্চু মেম্বার,শরিফ, রবিউলসহ আরও অনেকে এ ঘটনায় জড়িত।হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে গোপন বৈঠক করে পরিকল্পনা করে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে খুনি ভাড়া করা হয়।
তিনি আরও বলেন,হত্যাকাণ্ডের দিন ভোরে,মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে গ্রামের লোকদের উসকানো হয়।হামলার সময় পুলিশ নীরব ছিল এবং ৯৯৯-এ ফোন করেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।
আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই,আর কোনো ক্ষতি হলে দায় নিতে হবে আসিফ ও তার বাবাকে।
রুমা আক্তার আরও বলেন,এই সংবাদ সম্মেলনের পর আমাদের ওপর হামলার আশঙ্কা করছি।যদি আমাদের কিছু হয়,দায় নিতে হবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তার বাবাকে।
তারা আরও অভিযোগ করেন,মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শিমুল চেয়ারম্যান বর্তমানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাসায় লুকিয়ে আছেন বলে তথ্য রয়েছে।
রুমা আক্তারের দাবি,উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
2.শিমুল চেয়ারম্যানসহ সকল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
3.মামলার পুনর্বিন্যাস ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে
4.পরিবারের নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে।