নিউজ ডেস্কঃ
ভারত সরকার বেসামরিক ও সামরিক ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২৩৪ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার) প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের ড্রোন প্রযুক্তি বৃদ্ধি প্রতিহত করতে এবং দেশীয় সামরিক ও বেসামরিক ড্রোন শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যে বিশেষ করে ৬-৭ মে পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর নয়াদিল্লির পাকিস্তানে বিমান হামলা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এই নতুন ড্রোন প্রতিযোগিতাকে আরো তীব্র করেছে। পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশই ড্রোন প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি ও শিল্প সূত্র জানিয়েছে, ভারতের নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি ২০২১ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থায়ন করবে। এতে ড্রোন, যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম সহ সংশ্লিষ্ট সেবা উৎপাদনে সহায়তা করা হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে ড্রোনের অন্তত ৪০ শতাংশ মূল উপাদান দেশীয়ভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং উল্লেখ করেছেন, “সংঘাতের সময় ড্রোন এবং কামিকাজ ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা দেশীয় সামরিক ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।”
অতীতে ভারত প্রধানত ইসরায়েলের কাছ থেকে সামরিক ড্রোন আমদানি করলেও, এখন দেশীয় শিল্প সাশ্রয়ী মূল্যের ড্রোন সরবরাহ বাড়াচ্ছে। তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে চীন থেকে আমদানি নির্ভরতা রয়েছে, যা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
মূলকথা: ভারত ড্রোন উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে পাকিস্তান ও চীনকে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় টক্কর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।