পূর্বাচলে বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ২০১০ সাল থেকেই শুরু হয়েছে সবুজ ধ্বংসের প্রক্রিয়া। শহরের ইকোসিস্টেম রক্ষায় গাছের পরিচর্যার ওপর জোর দেন তিনি।
ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৫:
ঢাকা শহরের সবুজ পরিসর দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং আগামী ২০-২৫ বছরের মধ্যে এই নগরে সবুজ বলতে কিছু থাকবে না—এমনই সতর্ক বার্তা দিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা fসৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে পূর্বাচল নতুন শহরের হারার বাড়ি চত্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং বন অধিদপ্তর এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন,“এখন যেদিকেই তাকাই,কেবল সবুজ দেখি। কিন্তু এই দৃশ্য আগামীতে থাকবে না। এ সবুজ ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০১০ সাল থেকে। আমরা আদালতে গিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত ১৪৪ একর বনভূমি রক্ষা করতে পেরেছি।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন,“শহরের ইকোসিস্টেম একবার ধ্বংস হলে তা পুনর্গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুধু গাছ রোপণ করলেই হবে না, তাদের যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
বনায়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য অতিথিরা হলেন,
মোহাম্মদ এজাজ,প্রশাসক,ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (সভাপতি)ড.ফারহিনা আহমেদ,সচিব,পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়,মো.রিয়াজুল ইসলাম,চেয়ারম্যান, রাজউক,মো.আমির হোসাইন চৌধুরী,প্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর।
বনায়ন কর্মসূচির আওতায় পূর্বাচলের সড়ক বিভাজন, ফুটপাত, খাল ও জলাশয়ের পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানো হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা শহরের জীববৈচিত্র্য ও আবহাওয়া পুনরুদ্ধারের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ ঢাকা গঠনে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। বনায়ন কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা এবং প্রশাসনিক সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।