রাজশাহী ব্যুরো রিপোর্ট
২২ জুন ২০২৫, রবিবার
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জনপ্রতিনিধি বনাম জনগণের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে! ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল জনতা, আর সেই ক্ষোভের ফলেই নিজ মুখে পদত্যাগের পরও তিনি ভুল স্বীকার না করে পাল্টা নাটক সাজালেন — এমনই অভিযোগ তুললেন ভুক্তভোগী যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান ডালিম।
রোববার দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা সাংবাদিক সংস্থার কার্যালয়ে এক জোরালো সংবাদ সম্মেলনে ডালিম বললেন,
“আমি বা আমার পরিবারের কেউ তখন সেখানে ছিলাম না। নজরুল সাহেব জনগণের চাপেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। এখন সে আমাকে এবং বিএনপির নেতাদের জড়িয়ে নাটক সাজাচ্ছেন।”
কী ঘটেছিল ১৮ জুন?
বাসুদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে শত শত মানুষ দুর্নীতির বিচার আর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, নজরুল ইসলাম নিজেই লিখিত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরদিনই নাটকীয় ভোলবদল!
পাল্টা অভিযোগ:সন্ত্রাস,ষড়যন্ত্র,বিএনপি যোগ?
১৯ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম দাবি করেন,
“ডালিমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে।”
এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেন ডালিম। তাঁর কথায়,“আমি যুবদলের রাজনীতি করি, তবে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত না। নজরুল নিজের অপকর্ম আড়াল করতে বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”
প্রতিক্রিয়া জানালেন নেতাকর্মীরা,সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব ইসলাম মাহবুব, কাকনহাট পৌর বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিবসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁরা সবাই নজরুল ইসলামের বিচার দাবি করেন এবং জানান,
“চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দুর্নীতিতে জড়িত, প্রমাণসহ পদত্যাগ করেছেন। এখন সেই সত্য চাপা দিতে পাল্টা কুৎসা রটাচ্ছেন।”
মানহানির মামলার ঘোষণা, ডালিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নজরুল ইসলামের মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের জন্য মানহানির মামলা করবেন। তাঁর দাবি,
“জনগণের রায়েই নজরুল বিদায় নিয়েছেন, সেটা ঢাকতেই মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন।”
মানববন্ধন ও প্রতিবাদে উত্তাল ইউনিয়ন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে বাসুদেবপুর ইউনিয়নবাসী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। উপস্থিত জনতার চোখে মুখে ছিল একটাই বার্তা —
“দুর্নীতিবাজের আর ঠাঁই নেই!”
গোদাগাড়ীর বাসুদেবপুরে চলমান এই রাজনৈতিক নাটক এখন শুধু ইউনিয়নের নয়, পুরো রাজশাহীর আগ্রহের কেন্দ্রে। নজরুল ইসলাম পদত্যাগ করলেন স্বেচ্ছায়, কিন্তু এখন দায় চাপাচ্ছেন প্রতিপক্ষের ঘাড়ে — এমন অভিযোগের সত্য-মিথ্যা খুঁজে বের করাই এখন সময়ের দাবি।